May 13, 2026

Daily Amar Vasha

উত্তর জনপদে সত্য প্রকাশে দৃঢ়

মব সন্ত্রাস ও শ্রমিক হত্যার দায় সরকারকেই নিতে হবে

ডেস্ক রিপোর্ট : দেশের আইন শৃঙ্খলার অবনতি, মব সন্ত্রাস এবং শ্রমিক হত্যার দায় অন্তর্বর্তী সরকারকেই নিতে হবে বলে মনে করছে গণতান্ত্রিক অধিকার কমিটি। সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের নিয়ে গঠিত এই প্ল্যাটফর্মটি বলছে, ‘আইনশৃঙ্খলার অবনতি, মবের আক্রমণ, মানুষের জীবনকে বিপন্ন করা, শ্রমিক হত্যা, আদিবাসী নির্যাতন, ধর্মীয় সংখ্যালঘু মানুষের প্রাণহানি, নারীর বিরুদ্ধে সহিংসতা ও বিদ্বেষ, জাতীয় স্বার্থবিরোধী চুক্তি স্বাক্ষরে জবরদস্তি এই সবকিছুই প্রমাণ করে যে, এই অন্তর্বর্তী সরকার জনস্বার্থে কোনো পরিবর্তনে আগ্রহী নয়।

বৃহস্পতিবার বিকেলে প্ল্যাটফর্মটির পক্ষ থেকে গণমাধ্যমে একটি বিবৃতি পাঠানো হয়। বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেন প্ল্যাটফর্মের সদস্য অধ্যাপক ড. আনু মুহাম্মদ, অধ্যাপক ড. সামিনা লুৎফা, ডা. হারুন উর রশীদ, ড. মাহা মির্জা, মাহতাব উদ্দীন আহমেদ এবং মারজিয়া প্রভা।

বিবৃতিতে দেশের সাম্প্রতিক সময়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, মব আক্রমণ ও শ্রমিক হত্যার বিষয়টি বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হয়। এতে বলা হয়, দেশের আইন শৃঙ্খলার পরিস্থিতির অবনতির প্রতিটি ঘটনা পর্যবেক্ষণ করলে আমরা দেখতে পাই, অন্তর্বর্তী সরকার দায়হীনভাবে এই ঘটনাগুলো কেবল ঘটতে দেয়নি, জনগণের ন্যূনতম মানবাধিকারকে বিপন্নতার দিকে ঠেলে দিয়েছে। আগের সরকারের মতই শ্রমিকবিরোধী, নারীবিরোধী, জাতিসত্তাবিরোধী, অগণতান্ত্রিক ও স্বেচ্ছাচারী ভূমিকা গ্রহণ করছে এই সরকার।

অন্তর্বর্তী সরকারের নির্লিপ্ততায় বা সমর্থনে দেশে ‘মবোক্রেসি’ চলছে বলে অভিযোগ এনে বিবৃতিতে বলা হয়, রংপুরে তারাগঞ্জে দুইজন ভ্যানচালক রুপলাল দাস ও প্রদীপ দাসকে নির্মমভাবে পিটিয়ে মেরে ফেলা হয়েছে। রংপুরের গঙ্গাছড়ায় ধর্ম অবমাননার মিথ্যা প্রোপাগান্ডা তৈরি করে ধর্মীয় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের বাড়িঘর হামলা, লুট ও  অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে। অথচ পুলিশ হামলাকারীকে না ধরে ফেসবুকের একজন নিছক পোস্টদাতাকে গ্রেপ্তার করে মব হামলার প্রতি প্রত্যক্ষ সমর্থন দিয়েছে। লালমনিরহাটে বৃদ্ধ নাপিত পরেশ চন্দ্র শীল এবং তার ছেলে বিষ্ণ চন্দ্র শীলকে মিথ্যা ধর্ম অবমাননার অপবাদে মব দিয়ে পেটানো হয়েছে এবং পুলিশ সেই নির্যাতনকারীকে না গ্রেপ্তার করে পরেশ এবং বিষ্ণুকেই গ্রেপ্তার করে মবের বৈধতা দিয়েছে। ঢাকায় মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে এক আলোচনা সভায় মব সন্ত্রাস চালানো হয়েছে, পরে পুলিশ সন্ত্রাসীদের না ধরে সেই সভার আলোচক মুক্তিযোদ্ধা, বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক ও সাংবাদিকসহ ১৬ জনকে গ্রেপ্তার করেছে ও পরে সন্ত্রাস বিরোধী মামলায় তাদের কারাগারে পাঠিয়েছে। মব আক্রমণের একাধিক ঘটনা যখন জনগণের জানমালকে প্রতিমুহূর্তে বিপন্ন করে দিয়েছে, তখন প্রধান উপদেষ্টার মুখপাত্র মবকে প্রেশার গ্রুপ হিসেবে চিহ্নিত করে তাদের প্রতি একভাবে সমর্থনই প্রকাশ করেছেন এবং জনগণের সঙ্গে তামাশা করেছেন।

বিবৃতিতে অন্তর্বর্তী সরকার জুলাই গণহত্যার বিচারকার্য দ্রুততরভাবে বৈশ্বিক মানদণ্ড মেনে বিচার না করে পাইকারিভাবে মিথ্যা মামলা দিচ্ছে বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়। তারা ফ্যাসিস্ট পদ্ধতির এতোটুকু বদল না করে ফ্যাসিবাদ বিরোধিতার বাগাড়ম্বর করছে। ব্যক্তিগত বিদ্বেষের জের করে লীগ ট্যাগ দিয়ে মামলা করা ও বিচারহীনভাবে জেলে আটকে রাখাকে স্বাভাবিকীকরণ করেছে এখনকার বিচার ব্যবস্থা। চিহ্নিত যুদ্ধাপরাধীর জামিন অধিকারকে সংরক্ষণ করা হচ্ছে অথচ বম নাগরিকরা কারাগারে মৃত্যুবরণ করলেও তাদের জামিনের অধিকার দেখছে না আদালত। এভাবেই প্রশাসনিক ও বিচারিক ব্যবস্থার গোষ্ঠীগত স্বার্থরক্ষা ও ফ্যাসিস্ট কাঠামোর বদৌলতে, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পরের এক বছরে হাসিনার সরকারকে ফিরিয়ে এনেছে অন্তর্বর্তী সরকার। বিবৃতিতে শ্রমিক হত্যা, নারীকে গণধর্ষণের আহবানসহ নারীবিদ্বেষী তৎপরতা, বিভিন্ন স্থানে লুটপাট হামলা সহিংসতার জন্য দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হয়। একইসঙ্গে শ্রমিকদের বকেয়া মজুরি পরিশোধ, শ্রমিক নির্যাতন বন্ধ, শ্রমিক ছাঁটাই প্রত্যাহার এবং নিহত শ্রমিকের পরিবারকে যথাযথ ক্ষতিপূরণ দেওয়ারও দাবি জানানো হয়।

Viewed 5550 times

Spread the news
Copyright © All rights reserved. | Newsphere by AF themes.
error: Content is protected !!