May 13, 2026

Daily Amar Vasha

উত্তর জনপদে সত্য প্রকাশে দৃঢ়

অনিয়ম আর দুর্নীতির আঁতুরঘর বগুড়া রিহ্যাব সেন্টার

অনিয়ম ও দূর্নীতি।

•নিরাপত্তার অভাব।

•পালিয়েছে ০৪ জন রোগী।

 

আশিক সুজনঃ রিহ্যাব সেন্টারের নাম শুনলেই আঁতকে ওঠেন মাদকসেবীরা!!সুস্থতার ভয়ে নয়,তাদের অনিয়ম আর দুর্নীতি ও নির্যাতনের ভয়ে।বেশিরভাগ রিহ্যাব সেন্টারেই নেই কর্তব্যরত চিকিৎসক,বেশিরভাগ রিহ্যাব সেন্টারের মালিক রোগীকে সুস্থ করার কথা বলে মাদকসেবীর পরিবারের কাছে হাতিয়ে নেন মোটা অংকের অর্থ।রোগীরা পান না ভালো মানের চিকিৎসা ও উন্নত মানের খাবার।এমনই অভিযোগ তুলেছেন ভুক্তভোগী রোগী ও তাদের পরিবার।

‎বগুড়া রিহ্যাব সেন্টার অবস্থিত শহরের পুরান বগুড়া অওফদাগেটের বিপরীত পার্শ্বে।একটু ভেতর দিকে হওয়ায় বলা চলে লোক চক্ষুর অন্তরালেই বহাল তবিয়তে চলছে তাদের দূর্নীতি এবং আছে নিরাপত্তার অভাব।সম্রতি কয়েক মাসে ০৪ রোগি পালিয়ে যাবার মতন ঘটনাও ঘটেছে এই সুনাযধন্য রিহ্যাব সেন্টারে।

‎প্রথমত বাংলাদেশের মাদক নিরাময় কেন্দ্রের নিতীমালা অনুযায়ী কোন আবাসিক ভবন ও আবাসিক এলাকায় রিহ্যাব সেন্টার(মাদক নিরাময় কেন্দ্র)পরিচালনা করার কোন নিয়ম নেই।

‎মাদক নিরাময় কেন্দ্রের বিধীমালা ও আইন থেকে জানা যায়,সাধারণত আবাসিক এলাকায় রিহ্যাব সেন্টার খোলার অনুমতি নেই,কারণ এটি বাণিজ্যিক কার্যক্রম হিসেবে বিবেচিত হয় এবং ইমারত নির্মাণ বিধিমালা ও অন্যান্য আইন অনুযায়ী আবাসিক এলাকায় নির্দিষ্ট কিছু বাণিজ্যিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ।রিহ্যাব সেন্টার স্থাপনের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে লাইসেন্স এবং অনুমতির প্রয়োজন হয়,যা সাধারণত বাণিজ্যিক বা নির্ধারিত এলাকায় দেওয়া হয়,আবাসিক এলাকায় নয়।

‎আবাসিক ও বাণিজ্যিক এলাকার বিভাজনের ক্ষেত্রে বলা হয়েছে,আবাসিক এলাকায় মূলত মানুষের বসবাসের জন্য বাড়িঘর তৈরি করা হয়।বাণিজ্যিক কার্যক্রমের জন্য নির্ধারিত এলাকা থাকে,যেখানে অফিস,শপিং মল,হোটেল ইত্যাদি খোলা যায়।রিহ্যাব সেন্টার একটি সেবা-ভিত্তিক বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান,তাই এটি আবাসিক এলাকায় অনুমোদিত নয়।

‎লাইসেন্স ও অনুমতির প্রয়োজনীয়তার ক্ষেত্রে মাদকাসক্তি নিরাময় বা পরামর্শ কেন্দ্র খোলার জন্য সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে লাইসেন্স নিতে হয়।এই লাইসেন্স পাওয়ার জন্য নির্দিষ্ট নিয়মকানুন মেনে চলতে হয় এবং স্থাপনাটি বাণিজ্যিক বা নির্ধারিত এলাকায় হতে হয়।

‎বাংলাদেশ ইমারত নির্মাণ বিধিমালা (DAP) আবাসিক ও বাণিজ্যিক এলাকাগুলোর ব্যবহার নির্দিষ্ট করে দিয়েছে। এই বিধিমালা অনুযায়ী আবাসিক এলাকায় বাণিজ্যিক বা সেবা-ভিত্তিক প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা অনুমোদিত নয়।

‎সরকারি অনুমোদনের ক্ষেত্রে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর বা সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্তৃপক্ষ থেকে লাইসেন্স ও অনুমোদন নিতে হবে।এবং ইমারত নির্মাণ বিধিমালা এবং অন্যান্য প্রাসঙ্গিক আইন মেনে চলতে হবে।

‎নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বগুড়া রিহ্যাবে চিকিৎসাধীন একাধিক ভুক্তভোগী জানান, আমাদের পরিবার আমাদেরকে মাদকাসক্তি থেকে মুক্ত করার জন্য মাদক নিরাময় কেন্দ্র “বগুড়া রিহ্যাব সেন্টারে ভর্তি করান।মাদক নিরাময় কেন্দ্রের লোকজন যখন আমাদের ধরে নিয়ে যেতে আসেন তখন বেশিরভাগ রোগীই ধস্তাধস্তি করেন।এই ধস্তাধস্তির কারনে বেশিরভাগ রোগীর উপর নেমে আসে ভয়াবহ নির্যাতন।হাত-পা বেঁধে লাঠি দিয়ে পেটায় রিহ্যাব সেন্টারের কর্তব্যরত লোকজন।সেখানে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়াই রোগীদের দেয়া হয় হাই পাওয়ারের ঘুমের ঔষধ।এবং রোগীদের ভালো-মন্দ খাবার পরিবার থেকে পাঠালে তা বেশীরভাগ রোগীর কাছেই পৌছায় না।আর বগুড়া রিহ্যাব সেন্টারে খাবারের মান খুবই নিম্নমানের।রোগীদের পরিবারের কাছে থেকে প্রতিমাসের জন্য ৩০-৪০ হাজার টাকা নিলেও চিকিৎসা সেবা থেকে শুরু করে খাবারের মান কোনটিই একজন রোগীর জন্য স্বাস্থ্যসম্মত নয়।

‎এই বিষয়ে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর(ডিএনসি), বগুড়ার ডি.ডি মোঃজিললুর রহমান দৈনিক আমার ভাষাকে বলেন,প্রথমত মাদক নিরাময় কেন্দ্রের বাংলাদেশ ইমারত নির্মাণ বিধিমালা (DAP) আবাসিক ও বাণিজ্যিক এলাকাগুলোর ব্যবহার নির্দিষ্ট করে দিয়েছে।দ্বিতীয় বিষয়টি হলো একজন চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী চিকিৎসা সেবা প্রদান করতে হবে এবং একজন চিকিৎসকে সার্বক্ষণিক সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানে উপস্থিত থাকতে হবে।আর তৃতীয় বিষয়টি রোগীদের সঠিক পরিমাণে খাদ্য ও কখনোই রোগীর গায়ে হাত উঠানো যাবে না।কারণ একজন মাদকাসক্ত রোগী মানসিক ভারসাম্যহীন।তাদের সঙ্গে ভালো ব্যবহার ও কাউন্সিলিং এর মাধ্যমে সুস্থ করে তুলতে হবে।আমার এর আগে বগুড়া রিহ্যাব সেন্টারের বিষয়ে কোন অভিযোগ পাই নাই।তবে তদন্তের মাধ্যমে অনিয়মগুলো প্রমাণিত হলে আইন অনুযায়ী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

 

 

বগুড়া শহরের সচেতন মহল মনে করেন,মাদক সমাজের একটি বৃহতর ব্যাধি।এতে জরিয়ে পরছে সকল বয়সের শ্রেনী পেশার মানুষ।নিজের সন্তান,ভাই,বোন অথবা বাবা যদি মাদকাসক্ত হয়ে থাকে,তাহলে বেশিরভাগ সময়েই পরিবার মাদকদ্রব্য নিরাময় কেন্দ্রে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেয়। কারণ একজন মাদকাসক্ত ব্যক্তি পরিবার ও সমাজের জন্য হুমকি।যেখানে একজন মাদকাসক্ত ব্যক্তি কে সুস্থ করার আশায় মাদক নিরাময় কেন্দ্রে ভর্তি করান।আর সেই মাদক নিরাময় কেন্দ্র গুলোই যদি দূর্নীতির আঁতুরঘরে পরিনত হয় তাহলে এর চেয়ে লজ্জা জনক বিষয় আর কি হতে পারে।তবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঠিক তদন্ত ও সঠিক পদক্ষেপের মাধ্যমে মাদক নিরাময় কেন্দ্রগুলোর অনিয়ম দুর্নীতি লাঘব করা সম্ভব হবে বলে আমরা প্রত্যাশা করি।

Viewed 4100 times

Spread the news
Copyright © All rights reserved. | Newsphere by AF themes.
error: Content is protected !!