চুরি বেশি হচ্ছে মতিঝিলে ছিনতাই তেজগাঁওয়ে
ডেস্ক রিপোর্ট : ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) আটটি বিভাগের মধ্যে মতিঝিলে চুরির ঘটনা ঘটছে বেশি। আর তেজগাঁও বিভাগে সবচেয়ে বেশি ঘটেছে ছিনতাই। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত সাত মাসের তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে এ চিত্র পাওয়া গেছে। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত মতিঝিলের সাত থানায় চুরির ঘটনায় মামলা হয়েছে ২৪৯টি। তেজগাঁও বিভাগের ছয় থানায় ছিনতাই-ডাকাতির মামলা হয়েছে ৬৮টি। তবে এ ধরনের অপরাধ সবচেয়ে কম হয়েছে লালবাগ বিভাগে।
সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, চুরি ও ছিনতাইয়ের প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে। কারণ, অনেক ভুক্তভোগী ঝামেলা এড়াতে মামলা করেন না।
সাত মাসে মামলার সংখ্যা
থানায় দায়ের করা মামলার ওপর ভিত্তি করে ডিএমপি সদরদপ্তর অপরাধ পরিসংখ্যান তৈরি করে। গত জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত সাত মাসে বিভিন্ন অপরাধে ৫০ থানায় ১০ হাজার ৫৩১টি মামলা হয়েছে। এর মধ্যে চুরি, ছিনতাই, ডাকাতি ও দস্যুতার মামলা এক হাজার ৪৯৭টি। সবচেয়ে বেশি মামলার সংখ্যা মতিঝিল বিভাগে; এক হাজার ৯২৭টি। এর পরের স্থানে তেজগাঁও বিভাগ, এক হাজার ৭৩৮টি।
চুরি বেশি মতিঝিলে
ডিএমপি থেকে প্রাপ্ত মামলার পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত সাত মাসে সবচেয়ে বেশি চুরির মামলা হয়েছে মতিঝিল বিভাগের পল্টন, মুগদা, মতিঝিল, সবুজবাগ, রামপুরা, খিলগাঁও ও শাহজাহানপুর থানায়। এসব থানার মামলা সংখ্যা ২৪৯টি। দ্বিতীয় স্থানে তেজগাঁও বিভাগ; মামলা সংখ্যা ১৬৩টি।
ছিনতাই-ডাকাতি-শিশু নির্যাতনে শীর্ষে তেজগাঁও
ছিনতাই-ডাকাতিতে শীর্ষে তেজগাঁও বিভাগ। মামলা সংখ্যা ৬৮টি। এই বিভাগের মোহাম্মদপুর ও আদাবর থানা এলাকার বেড়িবাঁধ ছিনতাই জোন হিসেবে চিহ্নিত। ঢাকার বৃহৎ কাঁচাবাজার কারওয়ান বাজারও এই বিভাগের আওতাধীন। এখানে ক্রেতারা আসেন মধ্যরাতে ও ভোরে। ওই সময় সুনসান সড়কের সুযোগ নেয় ছিনতাইকারী চক্র। এ ছাড়া হাতিরঝিলে অপরাধ ঘটিয়ে দ্রুত বেরিয়ে যেতে পারে দুর্বৃত্তরা।
ছিনতাই-ডাকাতিতে দ্বিতীয় স্থানে মতিঝিল বিভাগ, মামলা সংখ্যা ৬২টি। এ ছাড়া শিশু নির্যাতনেও শীর্ষে তেজগাঁও বিভাগের আওতাধীন এলাকা। সাত মাসে ৫৭টি মামলা হয়েছে। এরপর যথাক্রমে মিরপুর ৫২, মতিঝিল ৪৪, গুলশান ৩৬, রমনা ৩৫, ওয়ারী ২৩, উত্তরা ১৯ এবং লালবাগ বিভাগে মামলা সংখ্যা ১৩টি।
নারী নির্যাতন বেশি মিরপুরে
ডিএমপির আট বিভাগের মধ্যে নারী নির্যাতন সবচেয়ে বেশি মিরপুর বিভাগে। কাফরুল, মিরপুর, পল্লবী, ভাসানটেক, দারুস সালাম, শাহআলী ও রূপনগর থানায় এমন ঘটনায় করা মামলার সংখ্যা ১৫৭টি। মতিঝিল বিভাগ আছে দ্বিতীয় স্থানে। বিভাগটিতে এ-সংক্রান্তে মামলা সংখ্যা ১৫২টি।
তবে ধর্ষণের ঘটনা বেশি ওয়ারী বিভাগে; ৫২টি মামলা হয়েছে। নারী নির্যাতন ও ধর্ষণের ঘটনা কম ঘটেছে লালবাগ বিভাগে। নারী নির্যাতন মামলা ৫০টি ও ধর্ষণের মামলা সাতটি।
অপহরণ বেশি উত্তরায়
অপহরণে শীর্ষে উত্তরা বিভাগ। এ বিভাগের থানাগুলো হলো– উত্তরা পশ্চিম, উত্তরা পূর্ব, দক্ষিণখান, উত্তরখান, তুরাগ এবং বিমানবন্দর থানা। অপহরণ-সংক্রান্ত মামলার সংখ্যা ৩৫টি। এর পর যথাক্রমে মতিঝিল ৩১, ওয়ারী ২০, রমনা ১৯, গুলশান ১৮, মিরপুর ১৪, তেজগাঁও ১৩ এবং লালবাগ বিভাগে সাতটি।
ওয়ারী এগিয়ে মাদক-খুনে
মাদক মামলা বেশি হয়েছে ওয়ারী বিভাগের যাত্রাবাড়ী, ডেমরা, ওয়ারী, শ্যামপুর, গেণ্ডারিয়া ও কদমতলী থানায়, সাত মাসে ৬৮৪টি। দ্বিতীয় স্থানে তেজগাঁও বিভাগ। এ বিভাগের হাতিরঝিল, তেজগাঁও, তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল, মোহাম্মদপুর, আদাবর ও শেরেবাংলা নগর থানায় মাদক মামলার সংখ্যা ৫৫৮টি।
জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত ৫০ থানায় হত্যা মামলার সংখ্যা ২৯০টি। গণঅভ্যুত্থানে সংঘটিত হত্যার ঘটনায়ও এই সময়ে মামলা হয়েছে। বেশি হত্যা মামলা হয়েছে ওয়ারী বিভাগে, ৬৫টি। এর পরের স্থানে মিরপুর বিভাগ, মামলা ৫৩টি।
কেন অঞ্চলভেদে অপরাধের তারতম্য
মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রিমিনোলজি অ্যান্ড পুলিশ সায়েন্স বিভাগের অধ্যাপক ড. উমর ফারুক বলেন, এলাকাভেদে অপরাধের ধরন আলাদা। এর কারণ নির্দিষ্ট এলাকার মানুষের বসবাসের ধরন, প্রকৃতি, জীবনযাপন মান, আর্থসামাজিক অবস্থান এবং ভৌগোলিক অবস্থান। এসব উপাদানকে কেন্দ্র করে এলাকাভিত্তিক বিশেষ ধরনের অপরাধের সংস্কৃতি গড়ে ওঠে।
ডিএমপির উপপুলিশ কমিশনার (গণমাধ্যম) মুহাম্মদ তালেবুর রহমান সমকালকে বলেন, ভাসমান মানুষ যে এলাকায় বেশি থাকে, সেই এলাকায় অপরাধ বেশি ঘটে। তবে কী কারণে অপরাধ ঘটছে, সেগুলো চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
Viewed 5050 times
