রাকসু: প্রশাসন ভবনের সামনে ছাত্রদলের অবস্থান কর্মসূচি পালন
ডেস্ক রিপোর্ট : রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (রাকসু), হল সংসদ ও সিনেট ছাত্র প্রতিনিধি নির্বাচনে প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার দাবিতে আবারও অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা। সোমবার দুপুর সাড়ে ১২টা থেকে আড়াইটা পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সামনে তারা এ কর্মসূচি পালন করেন। রোববার রাকসু কার্যালয়ের সামনে ছাত্রদলের নারী নেত্রীদের হেনস্তা ও পরিকল্পিতভাবে মব সৃষ্টি করে শিক্ষার পরিবেশ বিঘ্নিত করার প্রতিবাদ জানান তারা।
এ সময় তারা, ‘প্রথমবর্ষ ভয় নাই, রাজপথ ছাড়ি নাই’, ‘দিতে হবে দিয়ে দাও, প্রথমবর্ষের ভোটাধিকার’, ‘আমার বোন আহত কেন, প্রশাসন জবাব চাই’, ‘জিয়ার সৈনিক, এক হও লড়াই করো’, ‘জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল, জিন্দাবাদ জিন্দাবাদ’ ইত্যাদি স্লোগান দেন।
শাখা ছাত্রদলের সভাপতি সুলতান আহমেদ রাহী বলেন, ‘গতকাল রাকসুর কোষাধ্যক্ষের কার্যালয়ের সামনে আমাদের শান্তিপূর্ণ অবস্থান কমসূচি ছিল। পরবর্তীতে আমরা জানতে পেরেছি উপাচার্য অধ্যাপক সালেহ হাসান নকীব শিবির সহ তাদের বানানো তিনটি সংগঠনকে ১৫ লাখ টাকা দিয়েছে ছাত্রদলের ওপর হামলা করার জন্য। কালকের সেই হামলায় আমদের ১০ জন নেতাকর্মী আহত হয়েছে, আমাদের নারী বোনদের হেনস্থা করা হয়েছে। তারই প্রতিবাদে এবং প্রথমবর্ষের শিক্ষার্থীরদের ভোটের অধিকার ফিরিয়ে দিতে আমরা আজ এখানে অবস্থান করছি।’
তিনি আরও বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত করার অধিকার বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের নেই। আমদের এই সহজ দাবি মেনে নিতে প্রশাসনের সমস্যা কোথায়?’
তিনটি সংগঠনকে ১৫ লাখ টাকা দেওয়া, ছাত্রদলের এই অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক সালেহ হাসান নকীব সমকালকে বলেন, আমি দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে অনেক ধরনের মিথ্যা কথা শুনেছি। তবে, এইটার মতো মিথ্যা এখন অবধি কখনো শুনিনি।
উল্লেখ্য, রোববার সকাল সাড়ে ৯টা থেকে প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্তির দাবিতে রাকসুর কোষাধ্যক্ষের কার্যালয়ের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করে ছাত্রদল। হঠাৎ সোয়া ১০টার দিকে তারা কোষাধ্যক্ষের কার্যালয়ে চেয়ার ভাঙচুর ও একটি টেবিল উল্টিয়ে দেন। পরে সাড়ে ১০টার দিকে কার্যালয়ের ফটকে তালা ঝুলিয়ে দেন তারা। এমন পরিস্থিতিতে শেষদিনের মনোনয়নপত্র বিতরণের কার্যক্রম বন্ধ হয়ে পড়ে।
ওইদিন সকাল ১১টা থেকে মনোনয়নপ্রত্যাশী শিক্ষার্থী, সাবেক সমন্বয়করাসহ ছাত্রশিবির ও বিভিন্ন সংগঠনের নেতাকর্মীরা মনোনয়ন ফরম উত্তোলন করতে রিটার্নিং কর্মকর্তা কার্যালয়ে আসেন। কিন্তু ছাত্রদলের রাকসু কার্যালয়ে তালা দিয়ে অবস্থান করায় তারা আর মনোনয়ন নিতে পারেনি। পরে মনোনয়ন প্রত্যাশী শিক্ষার্থীরা ছাত্রদলের বিপক্ষে অবস্থান নেন। কার্যালয়ের তালা ভাঙতে যান। ছাত্রদল নেতাকর্মীদের বাধার কারণে শিক্ষার্থীরা তা আর করতে পারেনি। এরপর শুরু হয় দুই পক্ষের বিভিন্ন ‘আক্রমণাত্মক’ স্লোগান। এ সময় উভয় পক্ষের মাঝে দফায় দফায় ধাক্কাধাক্কি ও হাতাহাতি হয়। এক পর্যায়ে দুপুর ১টার দিকে ছাত্রদলকে পিছু হটিয়ে কার্যালয়ের তালা ভেঙে সেখানের দখল নেন শিক্ষার্থী, সাবেক সমন্বয়ক ও শিবিরের হল শাখার নেতাকর্মীরা। পরে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা আবারও কার্যালয়ের ফটকে অবস্থান নেয়। এ সময় উভয় পক্ষ থেকে একে অপরকে ‘আক্রমণ’ করে বিভিন্ন স্লোগান দেওয়া হয়। চার ঘণ্টা বন্ধ থাকার পর দুপুর ২টার দিকে মনোনয়নপত্র বিতরণ কার্যক্রম শুরু হয়। উদ্ভুত পরিস্থিতিতে সন্ধ্যায় সবপক্ষকে নিয়ে আলোচনা সভায় বসে নির্বাচন কমিশন। তবে সেই বৈঠক থেকে ওয়াকআউট করে ছাত্রদল, গণতান্ত্রিক ছাত্র জোট ও ছাত্র অধিকার পরিষদ।
Viewed 5200 times
