তদন্ত হলেও বিমানে থামছে না স্বর্ণপাচার, বরখাস্তদের হাজিরা এখন বলাকায়
ডেস্ক রিপোর্ট : বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সে কর্মরত কর্মকর্তা–কর্মচারী স্বর্ণপাচার বা অন্য যে কোন অপরাধের সঙ্গে জড়িত প্রমাণ পাওয়া গেলে বিমানের প্রচলিত আইন অনুযায়ী তাদের বিরুদ্ধে পাঁচ ধরনের শাস্তি দেওয়ার বিধান রয়েছে। শাস্তিগুলো হচ্ছে- তিরস্কার, ইনক্রিমেন্ট স্থগিত, পদাবনতি, চাকরি থেকে বহিষ্কার ও অর্থ আদায়। তবে এসব কোনো কিছুরই তোয়াক্কা করছে না বিমানের এক শ্রেণির অসাধু কর্মকতা–কর্মচারী। তদন্ত হলেও থামছে না স্বর্ণপাচার। সর্বশেষ ৪ আগস্ট ঢাকাগামী সৌদি আরবের রিয়াদ থেকে বিমানের বিজি-৩৪০ ফ্লাইটে দায়িত্ব পালনের সময় অবৈধ স্বর্ণসহ বিমানবন্দর আটক হন বিমানের সিনিয়র ফ্লাইট পার্চার রুদাবা সুলতানা। তার হেফাজত থেকে ২৩০ গ্রাম স্বর্ণের দুটি চেইন জব্দ করে বিমানবন্দর ঢাকা কাস্টমস হাউজ।
সম্প্রতি এর আগে অবৈধ স্বর্ণসহ বিমানবন্দর কাস্টমস কর্তৃক আটক হন বিমানের আরও ৩ কর্মী। তারা হলেন- কেবিন ক্রু হোসনে আরা, এলিন ও সাদিয়া। এ ঘটনায় তাদের বিরুদ্ধে বিমানের প্রচলিত আইনে তদন্ত চলছে। বিমান সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, সাময়িক বরখাস্ত এসব কর্মীর এখন হাজিরা হচ্ছে বিমানের প্রধান কার্যালয় বলাকা ভবনে।
অভিযোগ উঠেছে, বিভিন্ন সময় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরসহ অন্যান্য স্টেশন এলাকায় স্বর্ণপাচারসহ বিভিন্ন অপরাধের সঙ্গে জড়িত কর্মকর্তা–কর্মচারীর বিরুদ্ধে তদন্ত হলেও রহস্যজনক কারণে ছাড়া পেয়ে তারা আবার অপরাধের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ছে।
জানা যায়, বিমানের আন্তর্জাতিক রুটে উড়োজাহাজে দায়িত্ব পালনের সুযোগ নিয়ে কৌশলে বিদেশ থেকে অবৈধভাবে স্বর্ণ বহন করে এক শ্রেণির কেবিন ক্রু কর্মী। তল্লাশি করে তাদের লাগেজ ও দেহ থেকে অবৈধ স্বর্ণ জব্দ করে ডিএমএ (ডিটেনশন মেমো) আটক রেখে তাদের ছেড়ে দেন ঢাকা কাস্টমস কর্তৃপক্ষ।
এ ব্যাপারে ঢাকা কাস্টমস হাউসের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, প্রায়ই বিমানবন্দরের কাস্টমস তল্লাশিতে অবৈধ স্বর্ণসহ ধরা পড়ছে বিমানের কোনো না কোনো কর্মী। এ ঘটনায় কাস্টমসে একাধিক ডিটেনশন মামলায় জড়িত বিমানকর্মীদের বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে। এ ছাড়া স্বর্ণপাচারের সঙ্গে জড়িত বিমানকর্মীদের এ বিষয়টি অবহিত করা হয়েছে বিমান কর্তৃপক্ষকে।
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও ড. মো. সাফিকুর রহমান সমকালকে বলেন, স্বর্ণপাচারের অভিযোগে রুবাদা সুলতানাসহ বেশ কয়েকজন কর্মীকে চাকরি থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। তিনি বলেন, দুর্নীতির সঙ্গে আপস নয়। বিমানে দায়িত্ব পালনে যে কোনো অপরাধে ছাড় নেই।
এ ব্যপারে বিমানের মহাব্যবস্থাপক ও জনসংযোগ কর্মকর্তা এ বিএম রওশন কবীর সমকালকে জানান, সাময়িক বরখাস্তকালীন কর্মীরা খোরপোশ ভাতা পাবেন এবং বিমানের প্রধান কার্যালয়ে নিয়মিত হাজিরা দিতে হবে। এর আগেও স্বর্ণপাচারসহ বিভিন্ন ঘটনায় বেশ কয়েকজনকে বরখাস্ত করা হয়েছে। তিনি বলেন, বিমানের প্রচলিত আইন অনুযায়ী, তাদের বিরুদ্ধে পাঁচ ধরনের শাস্তি দেওয়ার বিধান রয়েছে। শাস্তিগুলো হচ্ছে- তিরস্কার, ইনক্রিমেন্ট স্থগিত, পদাবনতি, চাকরি থেকে বহিষ্কার ও অর্থ আদায়।
রওশন কবীর আরও বলেন, সর্বশেষ ৪ আগস্ট ঢাকাগামী সৌদি আরবের রিয়াদ থেকে বিমানের বিজি-৩৪০ ফ্লাইটে দায়িত্ব পালনের সময় অবৈধ স্বর্ণসহ বিমানবন্দর আটক হন বিমানের সিনিয়র ফ্লাইট পার্চার রুদাবা সুলতানা।
Viewed 4900 times




