April 4, 2026

Daily Amar Vasha

উত্তর জনপদে সত্য প্রকাশে দৃঢ়

বগুড়ার দুপচাঁচিয়া উপজেলা চাঞ্চল্যকর শ্বশুর ও তার পুত্রবধূ হত্যা মামলায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে গোয়েন্দা পুলিশ।

সৈয়দ আরমান বগুড়াঃ বগুড়ার দুপচাঁচিয়া উপজেলার জিয়ানগর লক্ষীমণ্ডল গ্রামে নৃশংসভাবে খুন হওয়া শ্বশুর মো. আফতাব আলী (৬৫) ও তার পুত্রবধূ রিভা আক্তার (৩০) হত্যা মামলায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে গোয়েন্দা পুলিশ। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, ডাকাতির উদ্দেশ্যেই এই হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে। তবে এর পেছনে রয়েছে কাজ থেকে বাদ দেওয়ায় সৃষ্ট পুরনো ক্ষোভ।

জেলা গোয়েন্দা পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গত ৮ জুলাই দিবাগত রাতে নিজ বাড়িতে আফতাব আলী ও রিভা আক্তারকে হত্যা করা হয়। এই ঘটনায় নিহত আফতাব আলীর মেয়ে তহমিনা বিবি ওই দিনই অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মামলা করেন।
বগুড়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) হোসাইন মুহাম্মদ রায়হান জানান, গ্রেপ্তারকৃতরা ডাকাতির উদ্দেশ্যে নিহত আফতাব আলীর বাড়িতে কৌশলে প্রবেশ করে। তারা আফতাব আলীর ঘরের দরজায় ধাক্কা দিয়ে বারবার ডাকাডাকি করলে তিনি বাইরে আসেন। এ সময় আসামিরা আফতাব আলীর ডান চোখের উপরে আঘাত করলে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। তাৎক্ষণিকভাবে তার হাত, পা ও মুখ বেঁধে শ্বাসরোধ করে মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়।
এ অবস্থায় পুত্রবধূ রিভা আক্তার ঘটনা জানতে পেরে দরজা খুললে তাকেও একই কায়দায় শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়। রিভার শিশু কন্যাকে চোখ বন্ধ করতে বললে সে ভয়ে চুপ করে থাকে। এরপর হত্যাকারীরা ঘরে থাকা স্বর্ণের বিভিন্ন গয়না, নগদ ৬ লাখ ২০ হাজার টাকা এবং মোবাইল ফোন নিয়ে মূল গেট দিয়ে পালিয়ে যায়।
পুলিশ জানায়, মঙ্গলবার (১৫ জুলাই) রাত সাড়ে ১২টার দিকে বিশেষ অভিযান চালিয়ে ঢাকার কমলাপুর স্টেশন থেকে গ্রেপ্তার করা হয় দুপচাঁচিয়া উপজেলার বেরুঞ্জ গ্রামের মো. আব্দুল করিমের ছেলে মো. আব্দুল হাকিম (৩৪) ও একই উপজেলার লক্ষীমণ্ডপ গ্রামের মৃত মোকবুল হোসেনের ছেলে মো. আব্দুল মান্নান (৫০) কে। এরপর কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলার চর জামাল গ্রাম থেকে গ্রেপ্তার হন আরেক আসামি, আদমদীঘি উপজেলার বাশিকোড়া গ্রামের মৃত লছির আকন্দের ছেলে মো. রফিকুল ইসলাম (৪১)।
পুলিশের তথ্য মতে, নিহত আফতাব আলীর ছেলে ও রিভার স্বামী শাহজাহান আলী একজন সৌদি প্রবাসী। বাড়িতে পুরুষ মানুষ না থাকায় এই হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনা করেন আব্দুল মান্নান। তিনি দীর্ঘ দিন ধরে নিহত আফতাব আলীর বাড়িতে কাজ করতেন। এক পর্যায়ে বাড়ির লোকজন জানতে পারে যে আব্দুল মান্নান নেশাগ্রস্ত ও নানা অপকর্মের সঙ্গে জড়িত। এ কারণে আফতাব আলী তাকে বাড়ি থেকে বের করে দেন। এই ক্ষোভের বশেই আব্দুল মান্নান, ডাকাত সরদার আব্দুল হাকিম এবং রফিকুল ইসলামের সঙ্গে মিলে এই হত্যাকাণ্ড ঘটান।
পুলিশ আরও জানিয়েছে, ডাকাত সরদার আব্দুল হাকিমের বিরুদ্ধে আরও ৭টি মামলা বিচারাধীন রয়েছে। এই তিনজনের গ্রেপ্তারের মধ্য দিয়ে দুপচাঁচিয়ার এই জোড়া খুনের রহস্য উন্মোচিত হলো।

 

Viewed 11350 times

Spread the news
Copyright © All rights reserved. | Newsphere by AF themes.
error: Content is protected !!