September 25, 2026

Daily Amar Vasha

উত্তর জনপদে সত্য প্রকাশে দৃঢ়

ইউরোপ জাতিসংঘের নিষেধাজ্ঞা ফেরালে সমান জবাব দেবে ইরান

ডেস্ক রিপোর্টঃ ২০১৫ সালের পরমাণু চুক্তির অধীনে ‘স্ন্যাপব্যাক’ পদ্ধতিতে জাতিসংঘের নিষেধাজ্ঞা পুনর্বহালের পদক্ষেপ নিলে ইউরোপকে ‘সমান ও যথাযথ জবাব’ দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরান।

সোমবার তেহরানে এক সংবাদ সম্মেলনে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাকাই ব্রিটেন, ফ্রান্স ও জার্মানির সাম্প্রতিক হুমকির সমালোচনা করেন। ওই তিন দেশ ‘স্ন্যাপব্যাক’ পদ্ধতি সক্রিয় করে তেহরানের বিরুদ্ধে জাতিসংঘের নিষেধাজ্ঞা পুনরায় আরোপের হুমকি দিয়েছে।

বাকাই বলেন, ‘ইউরোপীয়দের এই অবস্থান রাজনৈতিক এবং ইসলামি প্রজাতন্ত্রের বিরোধী।’ তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “স্বাভাবিকভাবেই এর সমান ও যথাযথ জবাব দেওয়া হবে।’

২০১৫ সালের পরমাণু চুক্তির অধীনে ‘স্ন্যাপব্যাক’ পদ্ধতিতে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হলেও চুক্তির শর্ত লঙ্ঘন করলে তা আবার কার্যকর করা সম্ভব। তবে বাকাই বলেন, গত মাসে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা চালানোর পর এই পদ্ধতির আইনি ও রাজনৈতিক ভিত্তি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘এই পদ্ধতির আশ্রয় নেওয়ার কোনো আইনগত, রাজনৈতিক বা নৈতিক ভিত্তি নেই। ইউরোপীয় দেশগুলো তাদের মৌলিক দায়িত্ব লঙ্ঘন করে এটি চাপের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে।

বাকাই আরও বলেন, ইরান এখনও পরমাণু চুক্তিতে অঙ্গীকারবদ্ধ রয়েছে, যদিও যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের ‘মৌলিক লঙ্ঘনের’ কারণে তেহরান পর্যায়ক্রমে কিছু অঙ্গীকার থেকে সরে যেতে বাধ্য হয়েছে। তিনি বলেন, ‘চুক্তির মূল পাঠেই উল্লেখ রয়েছে, অন্য পক্ষ অঙ্গীকার ভাঙলে ইরানের ধীরে ধীরে প্রতিশ্রুতি হ্রাসের অধিকার রয়েছে।’

২০১৫ সালের ওই চুক্তি ইরান এবং জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী পাঁচ সদস্য চীন, রাশিয়া, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স ও যুক্তরাষ্ট্র এবং জার্মানির মধ্যে স্বাক্ষরিত হয়। এতে ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত ২০২ দশমিক ৮ কেজি এবং তা স্বল্প মাত্রায় সমৃদ্ধ করার শর্ত রাখা হয়।

কিন্তু ২০১৮ সালের ৮ মে তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রকে একতরফাভাবে এই চুক্তি থেকে বের করে নেন এবং তেহরানের বিরুদ্ধে ব্যাপক নিষেধাজ্ঞা পুনরায় আরোপ করেন।

চলতি বছরের ১৩ জুন ইসরাইল যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থনে ইরানের সামরিক, পারমাণবিক এবং বেসামরিক স্থাপনায় টানা ১২ দিনের হামলা চালায়। ইরানও পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় ইসরাইলের সামরিক ও গোয়েন্দা স্থাপনায় আঘাত হানে। পরে ২৪ জুন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় তেহরান ও তেল আবিবের মধ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়।

Viewed 7400 times

Spread the news
Copyright © All rights reserved. | Newsphere by AF themes.
error: Content is protected !!