যুক্তরাষ্ট্রের রোটা দ্বীপে সুপার টাইফুন ‘বাভি’র তাণ্ডবে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি
অনলাইন ডেস্কঃ চলতি বছরে বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী সুপার টাইফুন ‘বাভি’ যুক্তরাষ্ট্রের প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপাঞ্চলে আঘাত হেনেছে। এটি এ বছরের দ্বিতীয় শক্তিশালী সুপার টাইফুন। এর তাণ্ডবে যুক্তরাষ্ট্রের রোটা দ্বীপে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ওয়েদার সার্ভিস জানিয়েছে, সোমবার সকালে ক্যাটাগরি-৫ হারিকেনের সমতুল্য শক্তিশালী এই সুপার টাইফুনের কেন্দ্র নর্দার্ন মারিয়ানা দ্বীপপুঞ্জের প্রায় দুই হাজার জনসংখ্যার রোটা দ্বীপের ওপর দিয়ে অতিক্রম করেছে।
ঘূর্ণিঝড়টির সর্বোচ্চ স্থায়ী বাতাসের গতি ছিল ঘণ্টায় ১৮০ মাইলেরও বেশি। রোটা দ্বীপে ঘণ্টায় ১৫০ মাইলের বেশি গতির ঝোড়ো বাতাস বয়ে যাওয়ার আশঙ্কার কথা জানানো হয়। এত শক্তিশালী বাতাস ভবন ও অন্যান্য স্থাপনায় ভয়াবহ ক্ষতি করতে পারে। পাশাপাশি গাছপালা ও বিদ্যুতের খুঁটি উপড়ে গিয়ে দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন থাকার আশঙ্কা রয়েছে।
এছাড়া, ঘূর্ণিঝড়ের সঙ্গে প্রবল বৃষ্টিপাত হওয়ায় আকস্মিক বন্যার সতর্কতা জারি করা হয়েছে। ঝড়ের মূল অংশ চলে যাওয়ার পরও ভারী বৃষ্টির প্রবণতা অব্যাহত থাকতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া বিভাগ।
রোটা দ্বীপটি গুয়াম থেকে প্রায় ৫০ মাইল উত্তরে অবস্থিত। গুয়ামে যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ঘাঁটি রয়েছে।
এর মধ্যে অ্যান্ডারসেন বিমানঘাঁটি অন্যতম। সেখানে নিয়মিত বি-১, বি-২ ও বি-৫২ বোমারু বিমান মোতায়েন করা হয়। এছাড়া, যুক্তরাষ্ট্র নৌঘাঁটি গুয়াম সাবমেরিনের স্থায়ী ঘাঁটি। দ্বীপটিতে সাত হাজারের বেশি মার্কিন সেনাসদস্য অবস্থান করছেন। এখানকার মোট জনসংখ্যা প্রায় দেড় লাখ।
মার্কিন সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, গুয়ামে সর্বোচ্চ মাত্রার ঝড় প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। ক্ষতিকর ঝোড়ো বাতাসের জন্য সবাইকে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।
এদিকে, রোটা থেকে প্রায় ৭৫ মাইল উত্তরে অবস্থিত সাইপান ও টিনিয়ান দ্বীপের বাসিন্দারাও ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাব মোকাবিলায় আশ্রয় নিয়েছেন। সেখানে ঘণ্টায় ৭৪ মাইলের বেশি গতির বাতাস বইতে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, চলতি বছরের এপ্রিল মাসে সুপার টাইফুন সিনলাকু এই অঞ্চলেই ক্যাটাগরি-৪ শক্তি নিয়ে আঘাত হেনেছিল। তখন ঘণ্টায় প্রায় ১৫০ মাইল বেগের বাতাস ও ২০ ইঞ্চির বেশি বৃষ্টিতে সাইপান ও টিনিয়ানে ব্যাপক বন্যা, দীর্ঘস্থায়ী বিদ্যুৎ বিভ্রাট এবং ঘরবাড়ি ও অবকাঠামোর বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হয়। সেই ক্ষতি পুরোপুরি কাটিয়ে ওঠার আগেই আবারও নতুন ঘূর্ণিঝড়ের মুখে পড়েছে দ্বীপগুলো।
যুক্তরাষ্ট্রের আবহাওয়া বিভাগ জানিয়েছে, সোমবার বিকেলের মধ্যে ‘বাভি’ মারিয়ানা দ্বীপপুঞ্জ অতিক্রম করে ঘণ্টায় ১০ থেকে ১৩ মাইল গতিতে পশ্চিম দিকে অগ্রসর হবে।
ঐতিহাসিকভাবে টিনিয়ান দ্বীপের গুরুত্বও অনেক। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় জাপানে পারমাণবিক বোমা নিক্ষেপকারী বি-২৯ বোমারু বিমানগুলো এই দ্বীপ থেকেই উড্ডয়ন করেছিল। বর্তমানে সেখানে থাকা নর্থ ফিল্ড বিমানঘাঁটিকে সংস্কার করে গুয়ামের বিকল্প সামরিক ঘাঁটি হিসেবে গড়ে তোলার কাজ করছে যুক্তরাষ্ট্র।
Viewed 1050 times