সময়ের সাথে সাথে মানুষ হচ্ছে মনুষ্যত্বহীন
কলামঃ-
আজকের আধুনিক যুগে আমরা সভ্যতার চরম শিখরে পৌঁছাচ্ছি।আকাশছোঁয়া অট্টালিকা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা আর মহাকাশ জয়ের গল্পে আমাদের প্রতিদিনের সকাল কাটে। কিন্তু এই বাহ্যিক চাকচিক্য আর উন্নতির আড়ালে একটি নীরব ক্ষয় আমাদের গ্রাস করছে। অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় হলো, সময়ের চাকা যত সামনের দিকে গড়াচ্ছে, মানুষের ভেতরের ‘মানুষ’টি তত বেশি হারিয়ে যাচ্ছে। আমরা দিন দিন যেন এক একটি যন্ত্রে পরিণত হচ্ছি, যেখানে হৃদয়ের স্পন্দন আছে কিন্তু অনুভূতির ছোঁয়া নেই।
বিজ্ঞাপন

মনুষ্যত্ব হলো মানুষের ভেতরের সেই নৈতিক শক্তি, যা তাকে পশু থেকে আলাদা করে। দয়া, মায়া, পরোপকার, সততা এবং অন্যের সুখে সুখী ও দুঃখে দুঃখী হওয়ার নামই মনুষ্যত্ব। কিন্তু বর্তমান সমাজের দিকে তাকালে এক নির্মম বাস্তবতার মুখোমুখি হতে হয়। আজ মানুষ বড্ড বেশি আত্মকেন্দ্রিক। প্রত্যেকে নিজের স্বার্থ, নিজের ক্যারিয়ার এবং নিজের বৃত্ত গোছাতে এতটাই ব্যস্ত যে, পাশের মানুষটার কান্নার আওয়াজ শোনার মতো সময় বা মানসিকতা কারো নেই। রাস্তায় কোনো দুর্ঘটনা ঘটলে আজ মানুষ সবার আগে পকেট থেকে স্মার্টফোন বের করে ভিডিও করতে বা ছবি তুলতে ব্যস্ত হয়ে পড়ে, মুমূর্ষু মানুষটিকে বাঁচানোর মানবিক তাগিদটুকুও যেন হারিয়ে গেছে।
বিজ্ঞাপন

এই মনুষ্যত্বহীনতার পেছনে বড় কারণ হলো চরম অবক্ষয় এবং লোভ। ক্ষমতার লোভ, অর্থের অহংকার আর তীব্র প্রতিযোগিতার বাজারে আমরা নৈতিক শিক্ষা ভুলে যাচ্ছি। জিপিএ ফাইভ আর বড় ডিগ্রির পেছনে ছুটতে গিয়ে পরিবার ও সমাজ থেকে নৈতিকতার যে পাঠ পাওয়া যেত, তা আজ বিলুপ্তির পথে। প্রযুক্তি আমাদের বিশ্বকে হাতের মুঠোয় এনে দিয়েছে ঠিকই, কিন্তু মানুষের মনকে করে দিয়েছে আরও বিচ্ছিন্ন ও সংকীর্ণ।
বিজ্ঞাপন

যদি এই ধারা অব্যাহত থাকে, তবে একদিন আমরা হয়তো এক রোবটের সমাজ পাবো, যেখানে মানুষ থাকবে কিন্তু মানবতা থাকবে না। সময় এখনো শেষ হয়ে যায়নি। এই অবক্ষয় থেকে বাঁচতে হলে আমাদের শিক্ষার মূল ভিত্তি হতে হবে নৈতিকতা। পরিবার থেকে শুরু করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পর্যন্ত সর্বত্র মানবিক গুণাবলীর চর্চা বাড়াতে হবে। মনে রাখতে হবে, কেবল দু-পায়ে হেঁটে চলা বা বড় ডিগ্রি অর্জন করাই মানুষের প্রকৃত পরিচয় নয়; মানুষের আসল পরিচয় তার মনুষ্যত্বে।
Viewed 6600 times