April 13, 2026

Daily Amar Vasha

উত্তর জনপদে সত্য প্রকাশে দৃঢ়

সাধ্য অনুযায়ী নিয়ামত উপভোগ নিন্দনীয় নয়

Onlie Desk:

একজন মুসলমানের আহলে সুন্নাত ওয়াল জামা‘আতের অনুসারী হওয়ার দাবি তখনই সত্য বলে গ্রহণ করা হবে, যখন তাদের বিশ্বাসের মতো তাদের জীবন যাপনও রাসুলুল্লাহ (সা.) ও সাহাবায়ে কেরামের পথ ও পদ্ধতির অনুসারে পরিচালিত হবে। তাদের স্বভাব-চরিত্র রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর স্বভাব-চরিত্রের নমুনা এবং তাদের সামাজিকতা নবীজি (সা.) ও সাহাবায়ে কেরাম (রা.)-এর সামাজিকতার মতো সৌন্দর্যমণ্ডিত হবে। পাশাপাশি তারা বুজুর্গানে দ্বিনের চালচলনকে প্রাণের চেয়ে প্রিয় মনে করে। অন্তরে বুজুর্গানে দ্বিনের মর্যাদা ও চোখে তাদের সম্মান ও ভক্তি বিদ্যমান থাকে।

একজন মুসলমানের জন্য সেসব যুবকের মতো হওয়া উচিত নয়, যারা সত্যের অনুসারী ও দ্বিনদার মানুষের রীতি-নীতি উপেক্ষা করে যুগের ফ্যাশনকে প্রাণের প্রিয় মনে করে তাকে নিজের বিশ্বাসের অন্তর্ভুক্ত করে নিয়েছে। যখন তাদের বলা হয়, হকপন্থী হওয়ার জন্য বিশ্বাসের মতো তার পরিপূরক আরো অনেক কিছুর প্রয়োজন, অথচ তোমরা ছেড়ে দিয়ে নিজেদের হকপন্থী হওয়ার দাবি করছ। তোমাদের দাবি তখনই সত্য বলে মানা হবে, যখন তোমরা ভেতরের মতো নিজেদের বাহিরকেও হকপন্থীদের অনুরূপ করে নেবে এবং তাঁদের স্বভাব-চরিত্র, জীবনযাত্রা প্রণালী, কার্যকলাপ, বেশভূষা ও সামাজিক আচরণ অবলম্বন করবে। এর উত্তরে তারা পাল্টা প্রশ্ন উত্থাপন করে বলে, আপনারা আমাদের সর্ববিষয়ে নবীজি (সা.) ও তাঁর সাহাবিদের অনুসরণ করতে বলেন, অথচ আপনারা যে পোশাক পড়েন, যে খাবার খান, যে ঘরে বসবাস করেন তার কোনটি মহানবী (সা.)-এর যুগে ছিল? আপনার যদি কিছু বিষয়ে ভিন্নতা অনুসরণ করতে পারেন, তবে আমরা কেন পারব না! আপনারা নিজেরাই তো ‘মা আনা আলাইহি ওয়া আসহাবি’-এর ওপর নেই, যা দ্বারা আহলে সুন্নাত ওয়াল জামা‘আতের অনুসারীদের পরিচয় নির্ণয় করা হয়।

এই প্রশ্ন প্রকৃত পক্ষে প্রবৃত্তির এক প্রকার জটিল জালবিশেষ। এর উত্তরে আমি বলব, যদিও ‘মা আনা আলাইহি ওয়া আসহাবি’ বাক্য ব্যাপক এবং সব বিষয় এর অন্তর্ভুক্ত, তবু এর ব্যাপকতার অর্থে এক প্রকার সীমাবদ্ধতা আছে। বাক্যটির অর্থ হলো, রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর কর্মকাণ্ড ও চালচলন অবশ্যই প্রত্যেক বিষয়ে অনুসরণ করতে হবে। কিন্তু সাধারণত কার্যকলাপ ও চালচলন বলতে যা বোঝায় এখানে শুধু তাই উদ্দেশ্য নয়।

অর্থাৎ শুধু তাঁর কাজই অনুসরণীয় নয়, বরং কিছু বিষয় তিনি নিজে না করলেও উম্মতের জন্য করার অনুমতি দিয়েছেন। আবার কিছু বিষয় শুধু তার জন্য অনুমোদিত ছিল উম্মতের জন্য তা করার অনুমতি ছিল না। অনুসরণের ব্যাপারে মূলনীতি হলো, নবীজি (সা.)-এর যেসব কাজ শুধু তাঁর জন্য বিশেষায়িত ছিল না এবং যেসব কাজ তিনি উম্মতকে করতে বলেছেন বা করার অনুমতি দিয়েছেন তা অনুসরণ করলে ‘মা আনা আলাইহি ওয়া আসহাবি’র অনুসরণ করা হয়েছে বলে গণ্য হবে। সুতরাং পোশাক, খাবার ও অন্যান্য দ্রব্যের ক্ষেত্রে মহানবী (সা.) যার অনুমতি দিয়েছেন বা যার ব্যাপারে নিষেধ করেননি, তা গ্রহণ করতে কোনো বাধা নেই। এ ক্ষেত্রে ইসলাম উদার নীতিই গ্রহণ করেছে এবং উম্মাহকে প্রশস্ততার নীতি অনুসরণ করতে বলেছে।

এ বিষয়ে উম্মতের আলেমরা একমত যে সাহাবায়ে কেরাম (রা.)-এর তুলনায় অধিক হকপন্থী আর কেউ ছিল না। তারা রাসুলে আকরাম (সা.)-এর চালচলন ও কর্মকাণ্ডের মূর্ত প্রতীক। তাঁদের অনুসরণকে মহানবী (সা.) পরকালীন মুক্তির অসিলা বলেছেন। ইতিহাসের পাতা ওল্টালে দেখা যায়, খুলাফায়ে রাশিদিনের যুগে ইসলামের উত্থানকালে সাহাবিরা খাওয়া-পরার ব্যাপারে প্রশস্ততা অবলম্বন করেছেন এবং আল্লাহর দেওয়া নানা ধরনের নিয়ামত উপভোগ করেছেন। অথচ মহানবী (সা.)-এর যুগে এমন প্রশস্ততা ছিল না। এমনকি নবীজি (সা.)-এর প্রথম যুগ ও তাঁর শেষ সময়ে সাহাবিদের জীবনযাত্রার চিত্র কিছু হলেও ভিন্ন ছিল।

হ্যাঁ, মনে রাখতে হবে যে শরিয়তের গণ্ডির মধ্যে থেকে নানা ধরনের নিয়ামত উপভোগ করা এবং সুখ-শান্তির উপকরণ অবলম্বন করার অনুমতি রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর বাণী দ্বারাই প্রমাণিত। বিপরীতে ভোগ-বিলাসিতার মধ্যে পড়ে না এমন বিষয়ও যদি দ্বিন ও শরিয়তের পরিপন্থী হয়, ইসলাম ও মুসলমানের রীতিবহির্ভূত হয় অথবা তাতে অবিশ্বাসীদের রীতি ও আদর্শ অন্তর্ভুক্ত থাকে, তবে তা পরিহার করতে হবে।

Viewed 150 times

Spread the news
Copyright © All rights reserved. | Newsphere by AF themes.
error: Content is protected !!