April 9, 2026

Daily Amar Vasha

উত্তর জনপদে সত্য প্রকাশে দৃঢ়

গুয়াগাছিয়ায় নয়ন–পিয়াস বাহিনীর ত্রাস: খুন, মাদক ও দখলবাজিতে বিপর্যস্ত জনপদ

নিজস্ব প্রতিবেদক: মুন্সিগঞ্জের গজারিয়া উপজেলার গুয়াগাছিয়া ইউনিয়ন বর্তমানে চরম অনিরাপত্তা ও আতঙ্কের জনপদে পরিণত হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, কুখ্যাত নয়ন–পিয়াস বাহিনীর দৌরাত্ম্যে সাধারণ মানুষ দিন কাটাচ্ছে ভয়ে ও অনিশ্চয়তায়।

অভিযোগ রয়েছে, এই বাহিনী দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ বালু উত্তোলন, চাঁদাবাজি, খুন, মাদক ব্যবসা, জমি দখল ও লুটপাটসহ নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েছে। এসব অপরাধের মাধ্যমে তারা গড়ে তুলেছে শক্তিশালী একটি অবৈধ নেটওয়ার্ক।

গত ৬ ফেব্রুয়ারি জামালপুর গ্রামে এক সামাজিক অনুষ্ঠানে যোগ দিতে গিয়ে স্থানীয় ব্যবসায়ী কাইয়ুম দেওয়ানের ওপর সশস্ত্র হামলার ঘটনা পরিস্থিতিকে আরও উদ্বেগজনক করে তোলে। হামলায় তিনি গুলিবিদ্ধ হন এবং তাকে রক্ষা করতে গিয়ে তার আত্মীয় শরীফ প্রধান গুরুতর আহত হন। স্থানীয়দের দাবি, গুয়াগাছিয়ায় পুলিশ ক্যাম্প স্থাপনে সহায়তা করায় ক্ষুব্ধ হয়ে তাকে টার্গেট করে নয়ন–পিয়াস বাহিনী।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পুলিশ ক্যাম্প স্থাপনের ফলে নদীপথে চলা অবৈধ বালু উত্তোলন ও নৌ-ডাকাতির কার্যক্রমে বাধা সৃষ্টি হয়। এতে বাহিনীটি ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, নয়ন–পিয়াস বাহিনীর পেছনে প্রভাবশালী দুই ব্যক্তি—আজাদ মুন্না ও খোকন—সেল্টারদাতা হিসেবে কাজ করছেন। তারা নিজেদের প্রভাব ও পরিচয় ব্যবহার করে দীর্ঘদিন ধরে বাহিনীটির কর্মকাণ্ডকে আড়াল করে আসছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, এই অপরাধ চক্রের শিকড় বহু পুরোনো। একটি পরিবারের কয়েক প্রজন্ম ধরে গড়ে ওঠা নেটওয়ার্ক বর্তমানে নয়ন ও পিয়াসের নেতৃত্বে সক্রিয় রয়েছে।

অভিযোগ রয়েছে, গত আট মাসে অন্তত ছয়টি হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে এই বাহিনীর সম্পৃক্ততা রয়েছে। এছাড়া বিভিন্ন থানায় তাদের বিরুদ্ধে প্রায় ৪০ থেকে ৪৫টি মামলা রয়েছে বলে জানা গেছে।

শুধু অপরাধই নয়, এই বাহিনীর ভয়ে প্রায় ২৫০টি পরিবার ইতোমধ্যে তাদের ভিটেমাটি ছেড়ে অন্যত্র আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছে। গ্রামবাসীর অভিযোগ, বাহিনীর সদস্যরা প্রকাশ্যে হুমকি দিয়ে বলছে—গ্রামে প্রবেশ করলেই গুলি করে হত্যা করা হবে।

এছাড়া কিশোর গ্যাং গঠন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছাত্রীদের উত্ত্যক্ত করা (ইভটিজিং) এবং অস্ত্র বাণিজ্যের মতো ঘটনাও ঘটছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

ভুক্তভোগী কাইয়ুম দেওয়ান বলেন,

“আমি শুধু জনস্বার্থে পুলিশ ক্যাম্প স্থাপনে সহায়তা করেছি। কিন্তু সেটিই আমার জন্য বিপদের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।”

বর্তমানে গুয়াগাছিয়া ইউনিয়নের সাধারণ মানুষ চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। তারা দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপ এবং নয়ন–পিয়াস বাহিনী ও তাদের সহযোগীদের আইনের আওতায় আনার জোর দাবি।

Viewed 550 times

Spread the news
Copyright © All rights reserved. | Newsphere by AF themes.
error: Content is protected !!