‘আমাদের একটি সেতু আছে, কিন্তু যাওয়ার সড়ক নেই’
ডেস্ক রিপোর্টঃ যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে উত্তর চরবংশী ইউনিয়নের আলতাফ মাস্টারঘাট সংলগ্ন মদিনা বাজারে খালের ওপর সেতু নির্মাণ করে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর। ২০২১-২২ অর্থবছরে প্রায় ৮৫ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত সেতুতে সংযোগ সড়ক না থাকায় পড়ে আছে তিন বছর ধরে।
স্থানীয়রা জানান, অপরিকল্পিতভাবে সেতু নির্মাণ করায় এর সুফল থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন তারা। সেতুর দুই পাশে থাকা সরু ও ভাঙা সড়কের কারণে রিকশা তো দূরের কথা, সাইকেল চলাচলও প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে।
মেঘনা নদী সংলগ্ন চরইন্দ্রুরিয়া ও চরঘাসিয়া গ্রামে কয়েক হাজার মানুষের বসবাস। চরবংশী ও চরআবাবিল ইউপির হায়দরগঞ্জ বাজারে যাতায়াতের অন্যতম ভরসা এ সড়ক। কিন্তু চলাচলের অনুপযোগী সড়কের কারণে ছোট-বড় দুর্ঘটনাও ঘটছে।
কৃষক ইব্রাহিম ও ফারুক মাঝি অভিযোগ করে বলে, আমাদের সামনে একটি সেতু আছে, কিন্তু সেখানে যাওয়ার জন্য কোনো সড়ক নেই। যে সড়ক আছে সেটি দিয়ে হাঁটতে গেলেও পড়ে যাওয়ার শঙ্কা থাকে। কয়েকদিন আগে পড়ে গিয়ে আমার পা ভেঙে যায়। পরে নৌকায় করে আমাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়।
মদিনা বাজার এলাকার বাসিন্দা কৃষক মোস্তফা মিয়া (৬৫) বলেন, আমাদের পশ্চিমদিকে একটি ক্লিনিক ও বাজার রয়েছে। কিন্তু সড়ক না থাকায় সেখানে যেতে পারি না। সেতুতে ওঠার মতো সড়ক নেই।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, চোখের সামনে সেতু থাকলেও তা ব্যবহার করতে পারছেন না তারা। অনেক সময় রোগী নিয়ে খালের পাড়ে জোয়ারের অপেক্ষায় বসে থাকতে হয়। বর্ষা এলে দুর্ভোগ কয়েক গুণ বেড়ে যায়। কাদা ও পানি পেরিয়ে শহরে যেতে অনেক সময় আলাদা লুঙ্গি-গামছা সঙ্গে নিতে হয়। এমনকি সড়কের দুরবস্থার কারণে মসজিদে নামাজ আদায় করতে ভোগান্তিতে পড়তে হয়।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আবদুল হাই খান বলেন, আমি যোগদানের আগেই সেতুটি নির্মাণ করা হয়। এখানে সংযোগ সড়কের জন্য দুইবার মাটি ফেলা হয়েছিল, আবারও ফেলা হবে।
রায়পুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মেহেদী হাসান কাউছার বলেন, বিষয়টি আমার জানা নেই। খোঁজখবর নিয়ে সংযোগ সড়ক নির্মাণের জন্য বরাদ্দ পেলেই দ্রুত কাজ শুরু করা হবে।
Viewed 300 times


