প্রতাপপুর জমিদার বাড়ী এখন প্রতাপহীনঃরাজাও নেই,মসনদ নেই
আমার ভাষা ডেস্ক রিপোর্টঃ রাজাও নেই, মসনদ নেই, প্রতাপও নেই। প্রতাপহীন দাগনভূঞার প্রতাপপুর রাজবাড়ী এখন কেবল কালের সাক্ষী হয়ে আছে। নেই কোলাহল ও বসতি। রাহুগ্রাসের কবলে রাজকীয় জমিদারবাড়ী নিয়ে কানামাছি ভৌ ভৌ খেলায় আছে একটি ভূমি খেকো সেন্ডিকেট।
প্রশাসন ও স্থানীয়রা ভূমি খেকো সিন্ডিকেটের প্রভাবের কাছে নস্যি মনে হয়। দৃষ্টিনন্দন জমিদার বাড়ী এখন ভূতুড়ে বাড়ি। পর্যটকেরা প্রতিনিয়ত জমিদার রামনাথ কৃঞ্চ সাহার বাড়ি দেখতে আসেন।
‘দেশভাগের সময়ও যে দাগনভূঞার জমিদার বাড়ির লোকজন দেশত্যাগ করেননি।’ স্বাধীন দেশে এখন তারা বসতি করছেন না নিরাপত্তার আশঙ্কার জন্য।
প্রতাপ হারালেও ঐতিহ্য নিয়ে মাথা উচুঁ করে দাঁড়িয়ে আছে প্রতাপপুর জমিদার বাড়ি। জমিদার বংশধররা জমিদারি প্রথা বিলুপ্ত হওয়ার পরও ২০০২ সাল পর্যন্ত এই জমিদার বাড়িটিতে ছিল। সরকারি ও বেসরকারিভাবে কোন উদ্যোগ না থাকায় ক্রমেই ঐতিহ্য হারাচ্ছে ফেনীর প্রতাপপুর জমিদার বাড়িটি।
ঐতিহাসিক এ বাড়িটি সংস্কারহীনতায় জরাজীর্ণ হয়ে আগাছায় ভুতুড়ে বাড়িতে পরিণত হচ্ছে। তবে পর্যটক বান্ধব পরিবেশ নিশ্চিতের জন্য সংস্কারের দাবি জানান দর্শনার্থীরা। যাতায়াত ব্যবস্থা ভালো হওয়ায় বাড়িটি এক নজর দেখার জন্য দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে দর্শনার্থী আসেন প্রতিদিনই।
জমিদারদের রেখে যাওয়া নিদর্শনগুলো দেখতে আশপাশের জেলা ও উপজেলার মানুষও ভিড় জমান এ বাড়িতে। তবে নিরাপত্তা, শৌচাগার ও বৈদ্যুতিক বাল্ব না থাকায় সন্ধ্যার আগেই এ বাড়ি ছাড়তে হয় দর্শনার্থীদের। এছাড়াও দীর্ঘদিন সংস্কারহীনতা ও পরিচ্ছন্নতার কাজ না হওয়ায় এ বাড়িটি ক্রমেই ঐতিহ্য হারাতে বসেছে। দ্রুত বাংলার জমিদারি প্রথার নিদর্শন হিসেবে বাড়িটি সংস্কার করে পর্যটন বান্ধব পরিবেশ গড়ে তোলার দাবি দর্শনার্থীদের।
বাংলা ১২২৮ সালের ১৩ ফাল্গুন রামনাথ কৃষ্ণ সাহা ফেনীর দাগনভূঞা উপজেলার পূর্বচন্দ্রপুর ইউনিয়নের প্রতাপপুর গ্রামে জমিদার বাড়ি নির্মাণ করেন। স্থানীয়দের কাছে এটি বড়বাড়ি ও রাজবাড়ি নামেই পরিচিতি। প্রায় সাড়ে ১৩ একর জায়গায় নির্মিত রাজপ্রসাদসম এ বাড়িতে রয়েছে ৫টি অভিজাত ডিজাইনের দ্বিতল ভবন। ওই ভবনে রামনাথসহ তারা পাঁচ ভাই পরিবার নিয়ে বসবাস করতেন।
রাজাও নেই, মসনদ নেই, প্রতাপও নেই। প্রতাপহীন দাগনভূঞার প্রতাপপুর রাজবাড়ী এখন কেবল কালের সাক্ষী হয়ে আছে। নেই কোলাহল ও বসতি। রাহুগ্রাসের কবলে রাজকীয় জমিদারবাড়ী নিয়ে কানামাছি ভৌ ভৌ খেলায় আছে একটি ভূমি খেকো সেন্ডিকেট।
প্রশাসন ও স্থানীয়রা ভূমি খেকো সিন্ডিকেটের প্রভাবের কাছে নস্যি মনে হয়। দৃষ্টিনন্দন জমিদার বাড়ী এখন ভূতুড়ে বাড়ি। পর্যটকেরা প্রতিনিয়ত জমিদার রামনাথ কৃঞ্চ সাহার বাড়ি দেখতে আসেন।
‘দেশভাগের সময়ও যে দাগনভূঞার জমিদার বাড়ির লোকজন দেশত্যাগ করেননি।’ স্বাধীন দেশে এখন তারা বসতি করছেন না নিরাপত্তার আশঙ্কার জন্য।
প্রতাপ হারালেও ঐতিহ্য নিয়ে মাথা উচুঁ করে দাঁড়িয়ে আছে প্রতাপপুর জমিদার বাড়ি। জমিদার বংশধররা জমিদারি প্রথা বিলুপ্ত হওয়ার পরও ২০০২ সাল পর্যন্ত এই জমিদার বাড়িটিতে ছিল। সরকারি ও বেসরকারিভাবে কোন উদ্যোগ না থাকায় ক্রমেই ঐতিহ্য হারাচ্ছে ফেনীর প্রতাপপুর জমিদার বাড়িটি।
ঐতিহাসিক এ বাড়িটি সংস্কারহীনতায় জরাজীর্ণ হয়ে আগাছায় ভুতুড়ে বাড়িতে পরিণত হচ্ছে। তবে পর্যটক বান্ধব পরিবেশ নিশ্চিতের জন্য সংস্কারের দাবি জানান দর্শনার্থীরা। যাতায়াত ব্যবস্থা ভালো হওয়ায় বাড়িটি এক নজর দেখার জন্য দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে দর্শনার্থী আসেন প্রতিদিনই।
জমিদারদের রেখে যাওয়া নিদর্শনগুলো দেখতে আশপাশের জেলা ও উপজেলার মানুষও ভিড় জমান এ বাড়িতে। তবে নিরাপত্তা, শৌচাগার ও বৈদ্যুতিক বাল্ব না থাকায় সন্ধ্যার আগেই এ বাড়ি ছাড়তে হয় দর্শনার্থীদের। এছাড়াও দীর্ঘদিন সংস্কারহীনতা ও পরিচ্ছন্নতার কাজ না হওয়ায় এ বাড়িটি ক্রমেই ঐতিহ্য হারাতে বসেছে। দ্রুত বাংলার জমিদারি প্রথার নিদর্শন হিসেবে বাড়িটি সংস্কার করে পর্যটন বান্ধব পরিবেশ গড়ে তোলার দাবি দর্শনার্থীদের।
বাংলা ১২২৮ সালের ১৩ ফাল্গুন রামনাথ কৃষ্ণ সাহা ফেনীর দাগনভূঞা উপজেলার পূর্বচন্দ্রপুর ইউনিয়নের প্রতাপপুর গ্রামে জমিদার বাড়ি নির্মাণ করেন। স্থানীয়দের কাছে এটি বড়বাড়ি ও রাজবাড়ি নামেই পরিচিতি। প্রায় সাড়ে ১৩ একর জায়গায় নির্মিত রাজপ্রসাদসম এ বাড়িতে রয়েছে ৫টি অভিজাত ডিজাইনের দ্বিতল ভবন। ওই ভবনে রামনাথসহ তারা পাঁচ ভাই পরিবার নিয়ে বসবাস করতেন।
ঘরগুলোর চারপাশে খনন করা ১২টি পুকুরের স্বচ্ছ পানিতে জমিদাররা মাছ চাষ করতেন। পুকুরগুলোতে ৫টি দৃষ্টিনন্দন বৈঠকখানাবেষ্টিত ঘাটলায় জমিদারদের পাঁচ পরিবারের বউ-ঝিরা গোসল ও খোসগল্পে মেতে থাকতেন। জমিদারী আমলে দেশ-বিদেশের অন্যান্য জমিদাররা এ বাড়িতেই সফরে বিরতি করতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করতেন বলে জনশ্রæতি আছে।
একটা সময় মাঠের ধানে ভরে যেত জমিদার বাড়ির উঠান–গোলা আর কাচারি ঘর। ধান উঠানো শেষে শুষ্ক মৌসুমে সেই জমিতে চাষ হতো সরিষা, মটরশুটি, খেসারি, কলাই ও মুসরিসহ বিভিন্ন রবিশস্য। ঘোড়ায় চড়ে জমিদাররা যাতায়াত করতেন এ বাড়ি-ও বাড়ি। উপজেলার সিন্দুরপুর ও রাজাপুর ইউনিয়ন পরিষদ ভবনে বসে ১০ তালুকের খাজনা আদায় করতেন তারা। সেই খাজনা জমা দিতেন সরকারি কোষাগারে। এ জমিদার বাড়ির ঈশারায় ওঠবস করতেন আশপাশের এলাকার মানুষ।
১৯৫০ সালে জমিদার প্রথা বিলুপ্তির পর এ পরিবারটির ক্ষমতা-দাপট কমতে থাকে। তারপরও দীর্ঘ ৪৮ বছর পর্যন্ত তারা এ বাড়িতে থেকেই নিজস্ব কার্যক্রম পরিচালনা করতেন।
তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ১৯৯৮ সালের দিকে ওই বাড়িতে কয়েকবার হামলা ও লুটপাট হওয়ার পর জমিদারের ওয়ারিশদের মাঝে ভয় কাজ করতে থাকে। একপর্যায়ে তারা নিরাপত্তার অভাব, ব্যবসায়িক সমস্যা ও যোগাযোগ সমস্যার কারণে ঢাকা-চট্টগ্রাম, ভারতের ত্রিপুরা ও কলকাতায় চলে যান। যাওয়ার সময় তাদের সব জমি ও পুকুরগুলো স্থানীয় কৃষকদের মাঝে বর্গা দেন।
পূর্বের ধারাবাহিকতায় এখনও প্রতি বছর ওই বাড়িতে দুই দিনব্যাপী মেলার আয়োজন হয়। মেলায় জমিদারদের বংশধরেরা আসেন। উৎসবে চলে জমিদার বাড়ির স্মৃতিচারণ, পুঁথি পাঠ ও গল্প পাঠের আসর। উৎসব শেষে জমিদারদের তৃতীয় বংশধরেরা স্থানীয় কৃষকদের থেকে বর্গা চাষের টাকা নিয়ে চলে যেতেন।
দাগনভূঞায় কয়েকটি চৌধুরী, ভূঞা এবং জমিদার বংশের মধ্যে প্রতাপপুর জমিদারদের অবস্থান ছিল শীর্ষে। তারা ছিলো আশপাশের এলাকার জন্য প্রভাবশালী। জমিদারদের চাহিদা অনুযায়ী বাড়ীটি ৮শত থেকে ১ হাজার ৬শত ৪৪ শতাংশে বর্ধিত করা হয়।
এক পর্যায়ে জমিদার প্রথার বিলুপ্তি ঘটলে ওই বাড়ির প্রভাব প্রতিপত্তি কমতে শুরু করে। জমিদার বাড়ীর সদস্যরা দেশ বিদেশে পাড়ি দিলে বাড়ীটি অযত্নে অবহেলা পড়ে থাকে।
সরেজমিনে গেলে স্থানীয়রা জানান, ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত রাজকৃঞ্চ সাহার উত্তরাধিকারীরা এ বাড়িতে অবস্থান করতেন। পরবর্তীতে ওই বাড়িটি স্থানীয় রাজনৈতিক নেতারা দখলে নিতে নানা ভাবে হেনস্থা করতে থাকে রাজবাড়ীর উত্তরাধিকারদেরকে।
এসময় কয়েকবার বাড়িটিতে বসবাসকারীদের উপর হামলা ও লুটপাট চালানো হয়। স্থানীয় নেতাদের লোলুপ দৃষ্টি আর নির্যাতনের কারণে এক পর্যায়ে তারা ওই বাড়ি ছাড়তে বাধ্য হন। বর্তমানে তারা ভারত ও দেশের বিভিন্ন স্থানে বসবাস গড়ে তুলেছেন। তবে এ বাড়িটি ঘিরে প্রতি বছর হিন্দু সম্প্রদায় তিনদিনব্যাপী একটি উৎসব পালন করে থাকেন।
উৎসবটিতে ফেনী, নোয়াখালী, কুমিল্লাসহ বিভিন্ন দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে হাজার হাজার লোকের সমাগম ঘটে। কিন্তু মেলা শেষ হলেই ওই বাড়িটি মাদক সেবীদের আড্ডাখানায় পরিণত হয় বলে অভিযোগ আছে। কখনও কেউ ওই বাড়ি পরিদর্শনে এলে নানা রকম বিড়ম্বনা তাদের তাড়া করে। কখনও কখনও উঠতি বয়সী যুবতীরা এই বাড়ি দর্শনে এসে হেনস্থা ও হয়রানির শিকার হন বলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় সূত্র স্বীকার করেন।
পর্যটকরা জানায়, ভারত উপমহাদেশের বিভিন্ন স্থানে রয়েছে ঐতিহাসিক ও প্রাচীন নিদর্শন। বাংলাদেশের আনাচে-কানাচে পড়ে থাকা এসব ঐতিহাসিক নিদর্শনের মধ্যে প্রতাপপুর জমিদার বাড়ি অনেক গুরুত্ববহন করে।
এখানকার দালান-কোঠা দেখতে অনেকটা নারায়ণগঞ্জের পানাম সিটির মতই। যার কারণে কম সময়েই স্যোশাল মিডিয়া ও ইউটিউবে বাড়ির ঐতিহ্য শুনে দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে এখানে দর্শনার্থীরা ছুটে আসেন।
বাড়িটি সংরক্ষনের ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. শাহীদুল ইসলাম যুগান্তরকে জানান, আমি এউপজেলায় যোগদান করেছি বেশিদিন হয়নি। তবে যতটুকু খোঁজ খবর নিয়েছি বাড়িটি এখনও ব্যক্তিমালিকানায় রয়েছে। তবে ঐতিহ্যবাহী এবাড়ীর প্রতি উপজেলা প্রশাসনের তীক্ষ্ণ নজরদারি রয়েছে। ব্যক্তি মালিকানায় থাকায় দৃষ্টিনন্দন দাগনভূঞার রাজকীয় প্রতাপপুর রাজবাড়িটিকে সংস্কার করে দর্শনীয় স্থানে পরিণত করা আগ্রহ থাকলেও আইনি বাধ্যবাদকতার বেড়াজালে সংস্কার ও পর্যটন বান্ধব কোন পরিকল্পনা নেয়ার সীমাবদ্ধতা রয়েছে।
এ ব্যাপারে ওসি দাগনভূঞা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ ফয়জুল আজীম নোমান যুগান্তরকে জানান, তিনি ওই বাড়িটির ঐতিহ্যের কথা শুনেছেন। এ থানায় তার যোগদানের পর বাড়িটিতে বখাটেদের আড্ডা এখন আর নেই। সার্বক্ষনিক তার নজরদারিতে আছে। তবে বাড়ীটি সেকাল এবং একালের কালের সাক্ষী হয়ে আছে।
Viewed 850 times