April 9, 2026

Daily Amar Vasha

উত্তর জনপদে সত্য প্রকাশে দৃঢ়

হল প্রভোস্টের বাসায় কাজ না করায় ৩ জনকে চাকরিচ্যুতের অভিযোগ

ডেস্ক রিপোর্ট : জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) ফজিলাতুন্নেসা হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক নজরুল ইসলামের বাসায় কাজ না করায় তিনজন কর্মচারীকে চাকরিচ্যুত করে অন্য তিনজনকে একইপদে নিয়োগ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

সোমবার (২৯ সেপ্টেম্বর) ভুক্তভোগী তিন কর্মচারী জানান, কোনো কারণ না জানিয়েই তাদের চাকরিচ্যুত করা হয়। তারা অভিযোগ করেন, প্রভোস্টের বাসায় কাজ করতে অস্বীকার করায় তাদের বাদ দিয়ে প্রভোস্টের বাসার ব্যক্তিগত কর্মচারীদের হলের কাজে ঢোকানো হয়েছে।

ভুক্তভোগী তিন কর্মচারী হলেন- ফজিলাতুন্নেসা হলের ডায়নিং অ্যাটেন্ডেন্ট মিরা রানী রায়, চম্পা এবং পরিচ্ছন্নতা কর্মী মোছা. সোমা। তারা আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে নিয়োগপ্রাপ্ত হয়ে গত দেড় বছর ধরে হলটিতে কর্মরত ছিলেন। তাদের চাকরিচ্যুত করে গত রোববার (২৮ সেপ্টেম্বর) ওই তিন পদে নতুন করে সিতা রানী, রহিমা আক্তার এবং সুমা বেগমকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

ভুক্তভোগী কর্মচারীরা বলেন, হলে আমরা মোট ১২ জন কাজ করি। হঠাৎ করেই আমাদের জানানো হয়, আমরা যেন হলে না আসি। কোনো কারণ জিজ্ঞাসা করলে উত্তর পাইনি। পরে জানতে পারি আমাদের বাদ দিয়ে প্রভোস্ট স্যারের বাসার কর্মচারীদের নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে। আমরা দেড় বছরের বেশি সময় ধরে কোনো অভিযোগ ছাড়া কাজ করছি। কিন্তু এখন আমাদের পেটে লাথি মারা হলো। দুইজন ডাইনিংয়ে আর একজন ক্লিনার হিসেবে কাজ করতাম। আমরা ‘ওয়ার্ল্ড সিকিউরিটি কোম্পানি’র মাধ্যমে আউটসোর্সিং কর্মচারী হিসেবে চাকরি করছিলাম।

তারা আরও বলেন, ২০২৩ সালে নিয়োগের পর থেকে আমরা স্বাভাবিকভাবে  কাজ করে আসছিলাম। তবে গণঅভ্যুত্থানের পর হলটিতে অধ্যাপক নজরুল ইসলাম দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই হলের কাজের পাশাপাশি তার বাসায় গিয়েও আনুষঙ্গিক কাজ করার জন্য বলা হয়। তবে কর্মচারীদের অনেকেই প্রাধ্যক্ষের বাসায় কাজ করতে গেলেও আমরা তিনজন অস্বীকৃতি জানাই। গত এপ্রিল মাসে প্রাধ্যক্ষের বাসায় কাজ করতে না গেলে চাকরিচ্যুত করা হবে বলেও আমাদেরকে হল প্রশাসন থেকে হুমকি দেওয়া হয়। একপর্যায়ে বিষয়টি ক্যাম্পাসের সাংবাদিকদের মধ্যে জানাজানির পর হলের এক ওয়ার্ডের ম্যাডামের মাধ্যমে সমাধান হয়। তবে নতুন করে আমাদেরকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে।

এই বিষয়ে ফজিলাতুন্নেসা হল প্রভোস্ট অধ্যাপক নজরুল ইসলাম বলেন, এইটা আমরা করি নাই, কোম্পানি করেছে। এই বিষয়ে কোম্পানির এখতিয়ার আছে। আমরা কোম্পানিকে জানিয়েছিলাম আমাদের ক্লিনার দরকার, বাথরুম সুইপার দরকার এবং কোম্পানির কর্মচারীরা বাথরুম, সুইপারের কাজ করতে চান না তখন বারবার চেষ্টা করার পরে চেঞ্জ করে দেওয়ার কথা বলে। আগে পরিবর্তন করার কথা থাকলেও আমাকে জানানো হয়েছে ১ তারিখ থেকে ক্লিনিং, বাথরুম সুইপারের লোক আসবে৷

তবে বাসায় কাজ না করার জন্য চাকরিচ্যুত করার অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, আমার বাসায় ওরা কেউ কাজ করে না। কোনো দিন করেওনি এবং আমি বাসায় কাজ করার জন্য কখনো তাদের বলিনি। কোম্পানি তাদেরকে বলেছে তারা সুইপার ক্লিনিংয়ের কাজ করবে কিনা।  যারা বলেছে সুইপারের কাজ করবে না, আউটসোর্সিং কোম্পানি তাদের পরিবর্তন করে দিয়েছে। কোম্পানি যেভাবে কাজ করতে বলবে তারা সেভাবেই কাজ করবে। হলে ডাইনিং নাই, আমি বলেছি যাদেরকেই নিয়োগ দিবেন তারা যেন সুইপারের কাজ করে, আমাদের হলে সুইপার নাই।

সুইপার সংকট থাকলেও নতুন যাদের নিয়োগ দেওয়া হয়েছে তাদেরকে তো সুইপার পদে নিয়োগ দেওয়া হয়নি- এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ডাইনিংয়ের পরিবর্তে যাদেরকে ডাইনিংয়েই নিয়োগ দেওয়া হয়েছে তারা আলাদাভাবে লিখিত দেবে যে তারা সুইপারের কাজগুলোও করবে। কিন্তু তারা (চাকরিচ্যুত) যদি কাজ করবে রাজি হতো তাহলে তাদের বাদ দেওয়া হতো না৷

এ বিষয়ে ওয়ার্ল্ড সিকিউরিটি সল্যুশন নামক আউটসোর্সিং কোম্পানির ডিরেক্টর (অপারেশন) মিনারুল ইসলাম বলেন, হলে তাদেরকে কাজ করতে দেওয়া হয়েছে, তবে তারা কাজ না করে রাজনীতি, আন্দোলন করে। সেজন্য তাদেরকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে।

একপর্যায়ে তিনি বলেন, মূলত ওই কর্মচারীরা হলের প্রভোস্টের বাসায় কাজ করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। সেজন্য তাদেরকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। এটাই আসলে মেইন কারণ। হলের কর্মচারীরা প্রভোস্টের বাসায় কেন কাজ করবে, সেটা আমারও প্রশ্ন।

Viewed 3750 times

Spread the news
Copyright © All rights reserved. | Newsphere by AF themes.
error: Content is protected !!