চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা দপ্তর থেকে অস্ত্র লুট
ডেস্ক রিপোর্ট : চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) নিরাপত্তা দপ্তর থেকে অস্ত্র লুটের ঘটদনা ঘটেছে। শনিবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও পার্শ্ববর্তী জোবরা গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে সংঘর্ষ চলাকালে এ ঘটনা ঘটে।
রোববার দুপুরে চবির শিক্ষার্থীদের সঙ্গে জোবরা এলাকার গ্রামবাসীর মধ্যে তীব্র সংঘর্ষ হয়। ঘণ্টাব্যাপী সংঘর্ষে উভয়পক্ষ ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করে। দেশীয় অস্ত্র ও লাঠিসোটা ব্যবহারের ঘটনা ঘটে। এতে প্রায় ৫০০ শিক্ষার্থী আহত হন। এসময় উত্তেজিত একটি অংশ বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা দপ্তরের অস্ত্র লুট করে নিয়ে যায় বলে অভিযোগ উঠেছে।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জানায়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর চবির বিভিন্ন আবাসিক হল থেকে জব্দ করা দেশীয় অস্ত্র নিরাপত্তা দপ্তরে সংরক্ষণ করা ছিল। সংঘর্ষের সময় সেখান থেকে অস্ত্রগুলো চুরি হয়। প্রশাসনের দাবি, প্রায় ১৩০টি রামদা ওই অস্ত্রাগার থেকে লুট হয়েছে।
অস্ত্র উদ্ধারে কঠোর অবস্থান নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। এ বিষয়ে জারি করা এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, যাদের কাছে এসব চুরিকৃত অস্ত্র রয়েছে, তাদেরকে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে নিরাপত্তা দপ্তরে জমা দিতে হবে। অন্যথায় তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে সহকারী প্রক্টর নাজমূল হোসাইন বলেন, “গত বছরের ৫ আগস্টের পরে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বিভিন্ন হল থেকে প্রায় ১৬০টি রামদা জব্দ করে নিরাপত্তা দপ্তরে সংরক্ষণ করেছিল। এই অস্ত্রাগার লুট করার জন্য ৬টি তালা ভাঙা হয়েছে। আমাদের নিরাপত্তা কর্মীদের মারাত্মকভাবে আহত করা হয়েছে। এমনকি তারা শিক্ষার্থীদের কাছে হাতজোড় করেছেন। উপ-উপাচার্য (এডমিন) স্যারও অনুরোধ করেছিলেন— ‘তোমরা এটা কর না, এটা ভালো দেখাবে না।’ কিন্তু শেষ পর্যন্ত আমরা কিছুই করতে পারিনি। প্রায় ১৩০টি রামদা লুট হয়েছে। এ বিষয়ে আমরা সব ছাত্র সংগঠনের সহযোগিতা চাই। কারণ এই অস্ত্র লুট একসময় শিক্ষার্থীদের জন্যই বুমেরাং হয়ে যেতে পারে।”
চবির ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার মো. সাইফুল ইসলাম সমকালকে আরও বলেন, অস্ত্র লুটের ঘটনায় হাটহাজারী থানায় একটি সাধারণ ডায়রি (জিডি) করা হয়েছে। সেখানে অজ্ঞাতপরিচয় ৮০০-১০০০ জনকে আসামি করা হয়েছে। বাদী হিসেবে নিরাপত্তা দপ্তরের প্রধান আব্দুর রহিম রয়েছেন।
Viewed 5250 times


