দোকানে তালা দেওয়ায় বাবা ও দুই ছেলেসহ গ্রেফতার ৪
ডেস্ক রিপোর্টঃ নাটোরের বড়াইগ্রামে বাবা ও দুই ছেলেসহ চারজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। সংশ্লিষ্টরা জানান, বিরোধপূর্ণ জমিতে থাকা ১০ দোকানে তালা দেওয়ার কারণে গ্রেফতার হয়েছেন তারা।
সোমবার (২৮ জুলাই) সন্ধ্যার দিকে উপজেলার আহম্মেদপুর বাজার থেকে ওই চারজনকে গ্রেফতার করা হয়। আর মঙ্গলবার তাদেরকে আদালতে পাঠানো হয়।
গ্রেফতার ব্যক্তিরা হলেন— আহম্মেদপুর গ্রামের মৃত বন্দে আলী মিয়ার ছেলে মুজিবুর রহমান (৬৫), তার ছেলে জোয়াড়ী ইউনিয়নের তিন নম্বর ওয়ার্ড জামায়াতের সভাপতি রুহুল আমিন (৪৫), তার ভাই ওয়ার্ড স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক হায়দার আলী (৪৮) ও জামায়াত কর্মী আজিমউদ্দিন (৪০)।
স্থানীয়রা জানান, আহম্মেদপুর গ্রামের মুজিবুর রহমানের সঙ্গে নওপাড়া গ্রামের জাহাঙ্গীর আলম, কোরবান আলী, শাহ আলম ও মোতালেব হোসেনের ৬ শতাংশ জমি নিয়ে দ্বন্দ্ব চলে আসছিল। এ ঘটনায় আদালতে মামলা চলমান। বিষয়টি সমাধানের জন্য স্থানীয়ভাবেও একাধিক সালিশ হয়েছে। সোমবার এ বিষয়ে সালিশ হওয়ার কথা থাকলেও শেষ মুহূর্তে তা বন্ধ হয়ে যায়। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে মুজিবুর রহমানের ছেলেরা বিবাদমান জমিতে থাকা ১০টি দোকানে তালা মেরে দেন। পরে খবর পেয়ে সেনাবাহিনী ও পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে চারজনকে আটক করেন ও তালা খুলে দেন।
নওপাড়া গ্রামের কোরবান আলী বলেন, ‘আমরা ক্রয় সূত্রে এ জমির মালিক। জমি কিনে সেখানে আমরা দোকান করেছি। কিন্তু তারা এ জমি তাদের বলে দাবি করে দোকানে তালা দিয়েছে। পরে বিকালে সেনাবাহিনী ও বড়াইগ্রাম থানা পুলিশ অভিযান চালিয়ে চারজনকে ধরে।’
ব্যবসায়ী জাহাঙ্গীর আলম বলেন, দোকানের দখল না পেয়ে তারা আমাদের কাছে মাসিক ৫ হাজার টাকা করে চাঁদা চেয়েছে। আমরা তা দিতে রাজি না হওয়ায় তারা দোকানে তালা দিয়েছে।
গ্রেফতারের আগে জামায়াত নেতা রুহুল আমিন বলেন, ‘ওই জমি আমাদের। তারা ২২ শতাংশ জমি কিনেছে। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে আমাদের ৬ শতাংশসহ পুরো জমি দখল রেখেছে। আমাদের অংশের জমি ছাড়তে বললেও তারা ছাড়ছেন না। আমরা জমি না ছাড়লে দোকানের ভাড়ার টাকা দিতে বলেছিলাম, চাঁদা নয়। এ বিষয়ে আমরা আদালতে মামলা করেছি। তবে এভাবে দোকানে তালা দেওয়া আমাদের ঠিক হয়নি।’
বিএনপি কর্মী হায়দার আলী বলেন, ‘উভয় পক্ষের সঙ্গে জমির সমস্যাটি সমাধানের জন্য স্থানীয় জামায়াত ও বিএনপির কয়েকজন নেতার নেতৃত্ব একটি কমিটি করা হয়। কিন্তু তারা (দোকানিরা) এ কমিটির কথাও মানেন না। তাই আমরা আমাদের জমি দখল করেছি।’
বড়াইগ্রাম থানার পরিদর্শক গোলাম সারোয়ার হোসেন বলেন, জাহাঙ্গীর আলম বাদী হয়ে দোকানে তালা দেয়া ও চাঁদা দাবির অভিযোগে থানায় মামলা করেছেন। ওই মামলায় চারজনকে গ্রেফতার দেখিয়ে মঙ্গলবার আদালতে পাঠানো হয়েছে।
Viewed 7650 times