টেকনাফে কোস্ট গার্ডের বিশেষ অভিযানে দেশীয় আগ্নেয়াস্ত্র, গোলাবারুদ ও গান পাউডার উদ্ধার
আবু মুসা,কক্সবাজারঃ কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার মহেশখালিয়া পাড়া এলাকায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে একটি দেশীয় আগ্নেয়াস্ত্র, তাজা গোলাবারুদ, এমটি কার্টিজ (ফাঁকা কার্তুজ) এবং গান পাউডার উদ্ধার করেছে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড। তবে অভিযানের সময় কোস্ট গার্ডের উপস্থিতি টের পেয়ে সংশ্লিষ্ট সন্ত্রাসীরা পালিয়ে যাওয়ায় কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি।
মঙ্গলবার (৭ জুলাই) বিকেলে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, উপকূলীয় এলাকায় আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা, অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী, চোরাচালানকারী এবং অপরাধী চক্রের বিরুদ্ধে চলমান অভিযানের অংশ হিসেবে কোস্ট গার্ড নিয়মিত গোয়েন্দা নজরদারি ও বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে আসছে। এরই ধারাবাহিকতায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মঙ্গলবার সকাল ৭টার দিকে টেকনাফ কোস্ট গার্ড স্টেশনের একটি আভিযানিক দল টেকনাফ থানাধীন মহেশখালিয়া পাড়া এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে।
অভিযান চলাকালে একটি সন্দেহভাজন বসতবাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে একটি দেশীয় আগ্নেয়াস্ত্র, তিন রাউন্ড তাজা গোলাবারুদ, ৩৭ রাউন্ড এমটি কার্টিজ (ফাঁকা কার্তুজ) এবং প্রায় ২৫ গ্রাম গান পাউডার উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার হওয়া এসব আলামত জব্দ করা হয়েছে।
কোস্ট গার্ড জানায়, আভিযানিক দলের উপস্থিতি টের পেয়ে বাড়িতে অবস্থানরত সন্ত্রাসীরা দ্রুত পালিয়ে যায়। ফলে অভিযান চালিয়েও কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি। তবে পলাতকদের শনাক্ত করতে এবং তাদের আইনের আওতায় আনতে প্রয়োজনীয় গোয়েন্দা কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
উদ্ধার হওয়া আগ্নেয়াস্ত্র, গোলাবারুদ ও গান পাউডার কী উদ্দেশ্যে সেখানে মজুদ করা হয়েছিল, কারা এর সঙ্গে জড়িত এবং এর পেছনে কোনো সংঘবদ্ধ অস্ত্রধারী চক্র রয়েছে কি না—এসব বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
কোস্ট গার্ড জানিয়েছে, উদ্ধারকৃত আলামতের বিষয়ে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। পাশাপাশি এ ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত ও গ্রেফতারে অন্যান্য আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে।
বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন বলেন, দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখা, উপকূলীয় অঞ্চলে অস্ত্র ও চোরাচালান নিয়ন্ত্রণ এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড ভবিষ্যতেও এ ধরনের গোয়েন্দাভিত্তিক বিশেষ অভিযান আরও জোরদারভাবে পরিচালনা করবে।
Viewed 1700 times