কক্সবাজারে মাদকের অর্থ ও অর্থপাচার ঠেকাতে কঠোর নজরদারির দাবি
নজরুল ইসলাম খোকন,টেকনাফ,কক্সবাজারঃ সরকারের ঘোষিত কালো টাকা বৈধ করার সুযোগকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে নতুন করে আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে সীমান্তবর্তী এলাকায় মাদক ব্যবসা, অবৈধ অর্থ লেনদেন এবং অর্থপাচারের ঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সচেতন নাগরিক ও বিভিন্ন মহল।
সংশ্লিষ্টদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে মাদকসহ বিভিন্ন অবৈধ কর্মকাণ্ড থেকে অর্জিত অর্থ বৈধ করার নানা কৌশল নিয়ে অভিযোগ রয়েছে। সীমান্ত এলাকায় এমন অভিযোগও রয়েছে যে, অবৈধভাবে অর্জিত অর্থের একটি অংশ অনানুষ্ঠানিক চ্যানেলের মাধ্যমে প্রতিবেশী মিয়ানমারে পাচার হচ্ছে। যদিও এসব অভিযোগের সত্যতা যাচাই ও তদন্ত সংশ্লিষ্ট আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থার বিষয়।
বিশ্লেষকদের মতে, কালো টাকা বৈধ করার সুযোগ দেওয়া হলেও অর্থের উৎস কঠোরভাবে যাচাই না করলে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড থেকে অর্জিত অর্থও বৈধ অর্থনীতিতে প্রবেশের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। এতে অর্থপাচার, কর ফাঁকি ও দুর্নীতিবিরোধী কার্যক্রমের কার্যকারিতা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
সংশ্লিষ্ট মহলের অভিমত, শুধু আর্থিক প্রতিষ্ঠানের আনুষ্ঠানিক নির্দেশনা যথেষ্ট নয়; বড় অঙ্কের আর্থিক লেনদেন, স্থাবর সম্পত্তি ক্রয়-বিক্রয় এবং বিনিয়োগের ক্ষেত্রে অর্থের উৎস নিশ্চিত করতে আরও কার্যকর নজরদারি প্রয়োজন। বিশেষ করে মাদক, চোরাচালান, দুর্নীতি ও অন্যান্য অপরাধ থেকে অর্জিত অর্থ যেন কোনোভাবেই বৈধ করার সুযোগ না পায়, সে বিষয়ে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।
সচেতন নাগরিকরা সীমান্ত এলাকায় মাদক ব্যবসা, অর্থপাচার ও অবৈধ সম্পদ গঠনের অভিযোগগুলো নিরপেক্ষভাবে তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে অপরাধলব্ধ অর্থের প্রবাহ রোধ, আর্থিক খাতে স্বচ্ছতা নিশ্চিত এবং অর্থপাচার প্রতিরোধে সংশ্লিষ্ট সব সংস্থার সমন্বিত ও জোরালো উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়েছে।
Viewed 2100 times