বগুড়া নন্দীগ্রামের প্যানেল চেয়ারম্যানের অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন
আঃওয়াহেদ ফকির,বগুড়াঃ বগুড়ার নন্দীগ্রাম উপজেলার ৪নং থালতা মাঝগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচিত ইউপি সদস্যবৃন্দ একত্রিত হয়ে আপনাদের সামনে এসে নিজেদের অসহায়ত্ব প্রকাশ করেন।
ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ আব্দুল মতিনের অবর্তমানে প্রশাসনিক ক্ষমতা ও আর্থিক দায়িত্বে থাকা ৮ নং ওয়ার্ডের সদস্য, প্যানেল চেয়ারম্যান-১ শামছুর রহমান ব্যাপক অনিয়ম দুর্নীতি করেছেন। বাসা-বাড়ির বার্ষিক ট্যাক্স (ইউপি কর) ৬ লাখ টাকা গ্রহণ করে প্রায় ৩ মাস পার গেলেও পরিষদের তহবিলে জমা দেননি। জাতীয় স্যানিটেশন প্রকল্পের আওতায় টুইনপিট ল্যাট্রিন নির্মাণের জন্য গ্রাহকরা প্রত্যেকে ৫ হাজার টাকা করে জমা দিয়েছেন। ইউনিয়নের ১১৫ জন মানসম্মত ল্যাট্রিন বরাদ্দ পেয়েছেন বলে জেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর থেকে জেনেছি। সে অনুয়ায়ী প্রত্যেক ইউপি সদস্যদের মাধ্যমে গ্রাহক সংগ্রহ এবং প্যানেল চেয়ারম্যানের কাছে টাকা জমা দেওয়া হয়। কিন্তু তিনি সরকারি নিয়মে উল্লেখিত টাকা এবং কিছু নামের তালিকা এখন পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট দপ্তরে জমা দেননি। টাকা জমা দেওয়ার জন্য ইউনিয়ন পরিষদ থেকে তাকে একাধিক লিখিত নোটিশ করা হয়েছে। জনগণের জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি এবং টাকা নিয়ে আত্মসাৎ চেষ্টা করছেন। প্যানেল চেয়ারম্যান-১ শামছুর রহমান পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে বিতরণ করা সরকারি ভিজিএফ প্রায় ৪০ বস্তা চাল পরিষদ থেকে চুরি করে কালোবাজারে বিক্রি করেছেন। অসহায় ব্যক্তিদের মাঝে চাল সঠিকভাবে বন্টন করেননি। মাদ্রাসাসহ অনেক দরিদ্র মানুষের নাম তালিকায় থাকলেও চাল বঞ্চিত হয়েছেন। চাল চুরির একটি ভিডিও ফেসবুকে ভাইরাল হয়েছে। তাতে দেখা যায়, ইউপি সদস্যরা পরিষদ থেকে চলে যাওয়ার পর জনশূন্য পরিষদে প্যানেল চেয়ারম্যানের উপস্থিতিতে গোডাউন থেকে চালের বস্তা বের করে অটোভ্যানে তুলে নিয়ে যায় তার ভাই যুবলীগ নেতা রুস্তম বাচ্চু। গত (২৫ মার্চ) নির্বাচিত চেয়ারম্যান মোঃ আব্দুল মতিন স্বপদে দায়িত্ব বুঝে নেওয়ার পর হঠাৎই উধাও হয়ে যান প্যানেল চেয়ারম্যান। তার অনিয়ম দুর্নীতি প্রকাশ পাবার পর থেকেই অনেকটা আড়ালে আছেন। হঠাৎ পরিষদে এলেও ইউপি সদস্যরা টাকার বিষয়ে প্রশ্ন করলে তালবাহানা করে চলে যান।
গত (৪ এপ্রিল) বগুড়া প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেন প্যানেল চেয়ারম্যান শামছুর রহমান। তিনি টাকা আত্মসাৎ এবং চাল চুরির ঘটনাকে আড়াল করে ব্যাপক মিথ্যাচার করেন। সংবাদ সম্মেলনের ভিডিওতে দেখা যায়, তিনি নিজ মুখেই ঘটনাগুলোর আংশিক দায় স্বীকার করেন। বাসা-বাড়ির ট্যাক্সের টাকা উত্তোলন করে বিভিন্নভাবে খরচ করেন বলে উল্লেখ করে। এটাও বলেছেন, সরকারি সহায়তার ভিজিএফ চাল জনগণ খায় না। এগুলো তারা বিক্রি করেছে, অনেকে কিনেছে। তার ছোট ভাই পরিষদে এসে চালগুলো তুলে পাঠিয়ে দিয়েছে। স্যানিটেশন প্রকল্পের গ্রাহকদের টাকা গ্রহণ করেনি বলে মিথ্যাচার করেন। টাকা গ্রহণ এবং অনিয়ম দুর্নীতির যথেষ্ট প্রমাণ আমাদের কাছে আছে। তদন্ত করলেই থলের বিড়াল বেরিয়ে আসবে। টাকা আত্মসাত এবং ঘটনা আড়াল করতে নিজেই বিভিন্ন দপ্তরে মিথ্যা অভিযোগ দিয়ে বেড়াচ্ছেন। ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচিত চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ দিচ্ছেন। এসব করেও তো আসা-যাওয়াসহ টাকা অপচয় হচ্ছে। পরিষদের বার্ষিক ট্যাক্সের টাকা, স্যানিটেশন প্রকল্পের গ্রাহকদের টাকা দপ্তরে জমা দিয়ে এবং চাল চুরি বিষয়ে নিঃশর্ত ক্ষমা চাইলেই বিতর্কের অবসান ঘটবে আশা করি।
২০২৪ সালের নভেম্বর মাসে বগুড়া থানার একটি হত্যাচেষ্টা মামলায় ষড়যন্ত্র করে পরিকল্পিত ভাবে ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচিত চেয়ারম্যান ও নন্দীগ্রাম উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সাবেক ১৬ নং সদস্য মোঃ আব্দুল মতিনকে আসামি করা হয়। তিনি কারাবন্দী এবং জনসেবা ব্যহত হওয়ার আশংকায় তাকে অনুপস্থিত দেখিয়ে গতবছর ডিসেম্বর মাসে ৮ নং ওয়ার্ডের সদস্য, প্যানেল চেয়ারম্যান-১ শামছুর রহমানকে আর্থিক ও প্রশাসনিক ক্ষমতা প্রদান করেছিলেন বগুড়া জেলা প্রশাসক। হাইকোর্ট বিভাগে গত ১৯ ফেব্রুয়ারি শুনানি শেষে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের পূর্ব আদেশের কার্যকারিতা স্থগিত হয়।
Viewed 1600 times


