April 9, 2026

Daily Amar Vasha

উত্তর জনপদে সত্য প্রকাশে দৃঢ়

করাঙ্গী নদী এখন মরা খাল

Online Desk:

হবিগঞ্জের বাহুবল উপজেলার ওপর দিয়ে বয়ে গেছে করাঙ্গী নদী। অবৈধ দখল আর অব্যাহত দূষণে নদীটি দিনদিন পরিণত হচ্ছে মরা খালে। পড়েছে হারিয়ে যাওয়ার শঙ্কায়। নাব্য না থাকায় নদী পারের কৃষিজমিতে সেচ ও স্থানীয়দের দৈনন্দিক কাজকর্মে ব্যাঘাত ঘটছে। হুমকির মুখে পড়েছে জীববৈচিত্র্য। স্থানীয়রা জানান, করাঙ্গী নদীর পানি দিয়ে তীবরর্তী তিনটি ইউনিয়নের হাজার হাজার একর জমিতে সেচ দেওয়া হতো। এখন দখল-দূষণের কবলে পড়ে আগের মতো নেই নাব্য। বাধ্য হয়ে সেচ যন্ত্রের ওপর নির্ভরশীল হতে হচ্ছে কৃষকদের। এতে চাষাবাদে বাড়ছে খরচ তেমনি পোহাতে হয় ভোগান্তি।স্থানীয় সচেতন মহল বলছে- এক সময়ের খরস্রোতা নদীটির যৌবন ফেরানোর উদ্যোগ নেই সংশ্লিষ্টদের। ফলে আরও বেপরোয়া হয়ে উঠছে দখলদাররা। এখনই নদীটি রক্ষায় যথাযথ ব্যবস্থা নিতে হবে। জানা যায়, করাঙ্গী নদীর উৎপত্তিস্থল ভারতের আসাম রাজ্যে। স্বল্পদৈর্ঘ্যরে এ নদী জেলার চুনারুঘাট উপজেলার সীমান্ত এলাকা দিয়ে প্রবেশ করে বাহুবল হয়ে গুংগিয়াজুরী হাওড়ে মিশেছে। বর্ষা মৌসুমে পানি প্রবাহ স্বাভাবিক থাকলেও হেমন্ত মৌসুমে থেকেই নদীটি পরিণত হয় মরা খালে। শুধু দখল-দূষণ নয়, শিল্প বর্জ্যও যেন গিলে খাচ্ছে নদীটি। বেশ কিছু পয়েন্টে অবৈধভাবে বালু তোলারও অভিযোগ রয়েছে। যে কারণে ভেঙে পড়ছে প্রতিরক্ষা বাঁধ। খানাখন্দে পরিণত হচ্ছে এলাকার রাস্তা-ঘাট।

স্থানীয় চাষি আলফাজ মিয়া জানান, নদীর পারের বাসিন্দারা খুবই অসহায়। এক সময় নদীতে প্রচুর মাছ ধরা পড়ত। পানি দিয়ে হাজার হাজার একর জমি চাষাবাদ হতো। বর্তমানে সেই দৃশ্য নেই। নদীটি যেন গিলে ফেলেছে প্রভাবশালীরা। সাইফুল ইসলাম বলেন, নদীর তীর ঘেঁষে কিছু শিল্পকারখানা গড়ে উঠেছে। কারখানার বিষাক্ত বর্জ্য সরাসরি নদীতে পড়ছে। এতে জমি আবাদ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। কৃষক মিজানুর রহমান বলেন, করাঙ্গী নদী ঘিরে গড়ে উঠেছিল হাঁসের খামার ও গরু-ছাগল পালন। যা এখন চোখে পড়ে না। দিদার এলাহী জানান, করাঙ্গী নদীর পানি হেমন্ত মৌসুমের শুরুতেই শুকিয়ে যায়। যে কারণে বিকল্প পন্থায় করতে হয় চাষাবাদ। এতে কৃষকের খরচও বাড়ছে। বাপা হবিগঞ্জের সাধারণ সম্পাদক তোফাজ্জুল সোহেল বলেন, ‘আমরা কিছু মানুষ নিজেদের স্বার্থে নদীর জায়গা দখল করে ভোগ করছি। অবৈধ দখলকারীদের বিরুদ্ধে এখন ব্যবস্থা নিতে হবে।’ ‘বাহুবলের ইউএনও লিটন চন্দ্র দে বলেন, নদীর জায়গা কেউ দখল করে রাখতে পারবে না। অবৈধ দখলদারদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ হবিগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী সায়েদুর রহমান বলেন, ‘বিষয়টি আমাদের নজরে আছে। নদী রক্ষায় যা করার প্রয়োজনীয় সব করা হবে।’

Viewed 950 times

Spread the news
Copyright © All rights reserved. | Newsphere by AF themes.
error: Content is protected !!