April 9, 2026

Daily Amar Vasha

উত্তর জনপদে সত্য প্রকাশে দৃঢ়

ট্রাম্পের হুমকির পর তেলের দর ১১০ ডলারের উপরে

অনলাইন ডেস্ক: 

ইরান যদি হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলের অনুমতি না দেয়, তবে দেশটির অবকাঠামো ধ্বংস করা হবে বলে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হুমকি দেওয়ার পরপরই বৈশ্বিক তেলের দাম আবার ব্যারেলপ্রতি ১১০ ডলারের উপরে উঠে গেছে।

সোমবার সকালে এশিয়ার বাজারে অপরিশোধিত ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ১.৬% বেড়ে ১১০.৮৫ ডলারে দাঁড়িয়েছে, আর যুক্তরাষ্ট্রে লেনদেন হওয়া তেলের দাম ০.৮% বেড়ে ১১২.৪০ ডলারে পৌঁছেছে।

গতকাল রবিবার (৫ এপ্রিল) সোশাল মিডিয়ায় অশালীন ভাষায় করা এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, মঙ্গলবারের মধ্যে এ গুরুত্বপূর্ণ জলপথ খুলে না দিলে যুক্তরাষ্ট্র বিদ্যুৎকেন্দ্র ও সেতুতে হামলা চালাবে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিমান হামলার শুরুর দিন ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকেই প্রতিশোধ হিসেবে তেহরান হুমকি দিচ্ছে—কোনো জাহাজ যদি এই প্রণালি ব্যবহার করতে চায়, তাদের ওপর আক্রমণ চালানো হবে। ফলে মধ্যপ্রাচ্য থেকে তেল ও গ্যাস পরিবহন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে।

এই সরু জলপথ দিয়ে সাধারণত বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ জ্বালানি পরিবহন হয়। সেখানে বিঘ্ন ঘটায় বিশ্বজুড়ে জ্বালানির দাম বেড়েছে এবং বৈশ্বিক মূল্যস্ফীতি বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

ট্রাম্প গত সপ্তাহে ইরানের বিরুদ্ধে হুমকি বাড়ানোর পর তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের উপরে উঠে যায়। তিনি সতর্ক করেছিলেন, আগামী কয়েক সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের বিমান হামলা ইরানকে ‘প্রস্তর যুগে’ ফিরিয়ে নেবে। এদিকে রোববারও উপসাগরীয় অঞ্চলে বিভিন্ন দেশের তেল স্থাপনায় ইরানের হামলা অব্যাহত ছিল।

তেহরান রবিবার কুয়েত, বাহরাইন ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের পেট্রোকেমিক্যাল কারখানায় একাধিক হামলার কথা স্বীকার করে।

ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) সোমবার সতর্ক করে বলেছে, তাদের দেশের বেসামরিক অবকাঠামোতে হামলা অব্যাহত থাকলে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক স্বার্থের বিরুদ্ধে হামলা আরও বাড়ানো হবে।

সৌদি আরব ও রাশিয়ার মতো বড় তেল উৎপাদক দেশের জোট ওপেকপ্লাস রোববার মে মাসের উৎপাদন সামান্য বাড়াতে সম্মত হয়েছে।
তবে বিবিসি লিখেছে, প্রতিদিন দুই লাখ ছয় হাজার ব্যারেল উৎপাদন বাড়ানোর এই সিদ্ধান্ত বাস্তবে পুরোপুরি কার্যকর নাও হতে পারে, কারণ সংঘাতের কারণে জোটের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সদস্য দেশ উৎপাদন বাড়াতে পারছে না।

ট্রাম্প ইরানকে হুমকি দিয়ে সময় বেঁধে দেওয়ার পর কয়েক দফা তা পিছিয়ে দিয়েছেন।

রবিবার ট্রুথ সোশালে তিনি লিখেছেন, “মঙ্গলবার হবে বিদ্যুৎকেন্দ্র দিবস এবং সেতু দিবস—সব একসাথে, ইরানে। এর মতো কিছু আর হবে না!!! ওই অভিশপ্ত প্রণালি খুলে দাও পাগল বেজন্মার দল, নইলে নরকে বাস করতে হবে—দেখে নিও! আল্লাহ মহান। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড জে. ট্রাম্প।”

কয়েক ঘণ্টা পরে একই প্লাটফর্মে তিনি লেখেন, “মঙ্গলবার, রাত ৮টা (ইস্টার্ন টাইম)!”

ট্রাম্প ফক্স নিউজকে বলেন, সোমবার একটি চুক্তি হওয়ার ‘ভালো সম্ভাবনা’ রয়েছে। তবে দ্রুত সমঝোতা না হলে তিনি ‘সবকিছু উড়িয়ে দিয়ে তেলের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার’ বিষয় বিবেচনা করছেন।

ইরানের জ্যেষ্ঠ সামরিক কর্মকর্তা জেনারেল আলি আব্দুল্লাহি আলিয়াবাদি ট্রাম্পের আগের সময়সীমাকে প্রত্যাখ্যান করে একে ‘অসহায়, অস্থির, ভারসাম্যহীন, ফালতু কথাবার্তা’ বলে উড়িয়ে দেন।

তার ভাষায়, “যুক্তরাষ্ট্রের নেতার জন্য নরকের দরজা খুলে যাবে।”

Viewed 2400 times

Spread the news
Copyright © All rights reserved. | Newsphere by AF themes.
error: Content is protected !!