মাদারীপুরে ৩০ বছরের পুরনো রাস্তা দখল, উচ্ছেদ কার্যক্রম শুরু না হওয়ায় হতাশ এলাকাবাসী
ডেস্ক রিপোর্টঃ মাদারীপুরে ৩০ বছরের পুরনো রাস্তার ওপর অবৈধ দখল, উচ্ছেদ কার্যক্রম এখনও শুরু না হওয়ায় ন্যূনতম মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত এলাকাবাসী।
মাদারীপুর পৌর এলাকার ৭ নং ওয়ার্ডের কুকরাইল এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে সর্বসাধারণের চলাচলের ব্যবহৃত সওজ-খাদ্য গুদাম হতে শহীদ বাচ্চু স্কুল সংযোগ সড়কটি অবৈধভাবে দখল করা হয়েছে যাহা শরীয়তপুর- মোস্তফাপুর চারলেন সড়কের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করেছে। এলাকাবাসী বহুবার রাস্তার অবৈধ দখলমুক্ত করার জন্য আবেদন জানিয়েছেন, তবে এখনো কোনো কার্যকর উচ্ছেদ অভিযান পরিচালিত হয়নি।
জানা যায়, ২০২৩ সালের ১৪ আগস্ট এলাকাবাসী জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত আবেদন করেন। পাশাপশি অসহায় এলাকাবাসী উক্ত রাস্তা দখলের প্রতিকার চেয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়েও আবেদন জানান। আবেদনে উল্লেখ করা হয়, সড়ক ও জনপথ বিভাগের পূর্ব পার্শ্ব প্রাচীর সংলগ্ন জমি এবং পশ্চিম পাশ এলাকাবাসীর দেওয়া জমির ওপর নির্মিত হয়েছে। কিন্তু কিছু দখলদার রাস্তার অংশ দখল করে স্থাপনা তৈরি করেছেন। ফলে সাধারণ মানুষের চলাচলে বাধা তৈরি হয়েছে।
জেলা প্রশাসকের নির্দেশে সহকারী কমিশনার (ভূমি), মাদারীপুর সদর, উপজেলা প্রশাসন, ভূমি অফিস এবং পৌরসভা যৌথভাবে সরেজমিন তদন্ত চালায়। সরেজমিন তদন্তে দেখা যায়, রাস্তার উত্তর পার্শ্ব ১০-১২ ফুট এবং দক্ষিণ পার্শ্ব ৯-১০ ফুট পর্যন্ত দৃশ্যমান থাকলেও রাস্তার মধ্যবর্তী স্থানে অবৈধ স্থাপনা থাকায় রাস্তার মধ্যভাগও সংকীর্ণ হয়ে গেছে যাহা ৩ ফুট ৬ ইঞ্চ (৩’-৬”)। ফলে রাস্তা টির মধ্যবর্তী স্থানে দখলদার কর্তৃক অবৈধ স্থাপনা নির্মানের কারণে বর্তমানে কোনও মানুষ মারা গেলে একটা রিক্সা তো দূরের কথা ঐ মৃত ব্যক্তির লাশ দাফনের জন্য পায়ে হেঁটে খাটিয়া নিয়ে রাস্তা দিয়ে ঢুকবার সুযোগ নেই।
জেলা প্রশাসনের একাধিক সরেজমিন তদন্ত প্রতিবেদনে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, রাস্তার উপর অবৈধ স্থাপনা দখল রয়েছে এবং তা সরানো জরুরি। উক্ত রাস্তা পৌরসভার স্বীকৃত এবং দীর্ঘদিন ধরে সাধারণ মানুষ ব্যবহার করে আসছে। রাস্তার উন্নয়নের স্বার্থে পৌরসভা একাধিকবার বালু ভরাট ও অন্যান্য উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালনা করেছে। এছাড়াও এলজিআরডি প্রকল্পের আওতায় ভবিষ্যতে রাস্তার উন্নয়নের জন্য আরসিসি রাস্তা ও ড্রেন নির্মাণের প্রস্তাব করা হয়েছে।
এলাকাবাসী অভিযোগ করেছেন, ২০২৫ সালে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য জেলা প্রশাসক ও পৌরসভাকে নির্দেশ দিয়েছেন। পৌরসভা দখলদারদের তিন দিনের মধ্যে স্থাপনা অপসারণের নোটিশ দেয়। কিন্তু দখলদাররা তা উপেক্ষা করেছে। পরে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ দিয়ে উচ্ছেদ কার্যক্রম পরিচালনার নির্দেশ দেওয়া হয়।
অতঃপর জেলা প্রশাসক কার্যালয় ও মাদারীপুর পৌরসভা যৌথভাবে সড়ক বিভাগ মাদারীপুর কে উক্ত রাস্তা নির্মাণের সার্থে সার্বিক সহযোগিতার জন্য পত্র প্রেরণ করেন। তাহারই ধারাবাহিকতায় সড়ক ও জনপথ বিভাগ মাদারীপুর- জেলা প্রশাসক কার্যালয়, মাদারীপুর পৌরসভা ও উপজেলা প্রশাসন চূড়ান্ত যৌথ পরিমাপ/জরিপ প্রতিবেদন দাখিল করেন এবং সেই সাথে সড়ক ও জনপথ বিভাগ মাদারীপুর ৩০/১০/২৫ তাং তাহার কার্যালয়ের ২৩৪১ নং স্মারক মূলে- উক্ত সর্বসাধরণের চলাচলের রাস্তা হতে (যাহা সর্বসাধারণের চলাচলের জন্য ছেড়ে দেয়া জমি) অর্থাৎ তাদের মালিকানাধীন জমি হতে অবৈধ স্থাপনা অপসারনে একজন বিজ্ঞ একিকিউটিভ ম্যাজিষ্ট্রেট নিয়োগ সহ প্রশাসনিক সহায়তা প্রদানের জন্য জেলা প্রশাসক, মাদারীপুর কে অনুরোধ করেন। অতঃপর জেলা প্রশাসক কার্যালয় হতে পুনরায় উক্ত রাস্তার অবৈধ দখলকৃত স্থাপনা উচ্ছেদ ও অপসারণ কার্যক্রম সম্পূর্ণ করবার নিমিত্তে ম্যাজিস্ট্রিয়াল দায়িত্ব পালনের জন্য বিজ্ঞ এক্সিকিউটিভ ম্যাজিষ্ট্রেট নিয়োগ দেয়া হয়।
২০২৬ সালের ৪ জানুয়ারি ম্যাজিসট্রিয়াল দায়িত্ব পালনে বিজ্ঞ এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট দখলদারদের সাত দিনের মধ্যে নিজ উদ্যোগে উক্ত সর্বসাধারণের চলাচলের রাস্তা হতে অবৈধ স্থাপনা অপসারণের জন্য নোটিশ প্রদান করেন। তবে এখন পর্যন্ত নির্ধারিত সময় পার হওয়া সত্ত্বেও উচ্ছেদ অভিযান শুরু হয়নি।
এলাকাবাসী দাবি করেছেন, প্রশাসন দ্রুত পদক্ষেপ নিলে রাস্তা পুনরায় সর্বসাধারণের চলাচলের জন্য মুক্ত করা সম্ভব। একই সঙ্গে নির্দেশ বাস্তবায়নে গাফিলতির জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ারও আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
স্থানীয়রা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, অবৈধ দখল থাকায় নগর উন্নয়ন প্রকল্প ও ভবিষ্যতের আরসিসি রাস্তা নির্মাণও বিলম্বিত হতে পারে। তাই তারা প্রশাসনের কাছ থেকে তৎক্ষণাৎ কার্যকর পদক্ষেপ চাচ্ছেন।
Viewed 650 times