May 13, 2026

Daily Amar Vasha

উত্তর জনপদে সত্য প্রকাশে দৃঢ়

দুরন্ত সাইফ-হৃদয়, দারুণ জয়

ডেস্ক রিপোর্ট : ১৬৮ রানে স্কোর লেভেল হয়ে যাওয়ার পর চারটি বলে কিছুক্ষণের জন্য স্নায়ুর লড়াই চলেছিল। তবে নাসুম এসে জয়সূচক রানটি নিয়ে দুশ্চিন্তা দূর করে দেন। বন্ধুত্বের জায়গায় বন্ধুত্ব থাকে, ম্যাচের পর সৌজন্যতার হাত বাড়িয়ে দেই বাংলাদেশ। শুধু বাইশ গজে লড়াই করে সুপার ফোরে ৪ উইকেটে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সুপার জয় জিতে নেয় বাংলাদেশ। ওপেনার সাইফ হাসানের ৬১ রানের ছক্কার ঝড়ের পর তাওহীদের ‘হৃদয়’ছোঁয়া ৫৮ রানের ইনিংস। চাপা পড়ে যায় তাঁর ক্যাচ মিসের ভুল, মূল্যবান হয়ে থাকে মুস্তাফিজের ২০ রান দিয়ে ৩ উইকেট শিকারের কৃতিত্ব। এদিন এতটুকু ঘাবড়ে যায়নি বাংলাদেশি ব্যাটসম্যানরা। সাইফ যেতে হৃদয়, হৃদয় ফিরতে জাকের– প্রত্যেকের মধ্যেই ভীষণ রকম আত্মবিশ্বাস বরং লঙ্কানদের কাঁপিয়ে দেই। দুবাইয়ে ১ বল হাতে রেখে দুর্দান্ত এই জয়ের পর সামনে প্রতিপক্ষ এখন বুধবার ভারত এবং বৃহস্পতিবার পাকিস্তান। যার একটিতে জিতলেও ফাইনালের সুযোগ থাকবে লিটনদের সামনে।

টসে জিতে গতকাল ফিল্ডিংটা দ্বিধামনেই নিয়েছিলেন অধিনায়ক লিটন দাস। সে কথা তিনি নিজেই বলেছেন। আসলে গ্রুপ পর্বে লঙ্কার বিপক্ষে আগে ব্যাটিং করতে নেমে যে আতঙ্ক ছড়িয়েছিল আবুধাবিতে, দুবাইয়ে এবার তাই শ্রীলঙ্কার রান তাড়া করার চ্যালেঞ্জটিই বেছে নিয়েছিলেন। তা ছাড়া একাদশে পরিবর্তন এনেছিলেন দুটি। আগের ম্যাচে পার্টটাইমার বোলারদের দিয়ে চারটি ওভার করাতে ঘাম ছুটে গিয়েছিল তাঁর। এদিন সেই ভুল করেননি। নুরুল হাসান সোহানের বদলে পেসার শরিফুলকে একাদশে রেখে দল সাজানো হয়। সেই সঙ্গে লেগ স্পিনার রিশাদ হোসেনের জায়গায় রাখা হয় মেহেদী হাসানকে। সিদ্ধান্তটি যে ভুল ছিল না, মেহেদী তা প্রমাণ করেছেন। শুরুতে দুই লঙ্কান ওপেনার যখন তাসকিন আর নাসুমের ওপর চার-ছক্কার ঝড় বইয়ে দেন, তখন মুস্তাফিজ এসে রান আটকে দেন। আর মেহেদী এসে টপাটপ দুই ফর্মে থাকা ব্যাটসম্যান কুশল মেন্ডিস আর কামিল মিশারাকে ডাগআউটে পাঠিয়ে দেন।

এবারের আসরে দুর্দান্ত ফর্মে থাকা লঙ্কান ওপেনারদের মধ্যে এই ম্যাচেই শুধু তাদের কেউ পঞ্চাশ ছুঁতে পারেননি। তবে পাওয়ার প্লেতে শক্তি প্রদর্শন করেছিলেন তারা ঠিকই। ৬ ওভারে ৫৩ রান তুলে নেয় শ্রীলঙ্কা। সে সময় শরিফুল আর নাসুমের ওপরই ভরসা রেখেছিলেন লিটন। শরিফুল কিছু সুইং পেলেও নাসুম তাঁর কুইকারে কিছুটা অস্বস্তিতে রেখেছিলেন দুই ওপেনারকে। তবে ছয় নম্বর ওভারে এসে লঙ্কানদের রানের গতি শ্লথ করে দেন মুস্তাফিজ। মাত্র ৩ রান দিয়ে নিজের প্রথম ওভার শুরু করেন। তারপরই লিটন বল তুলে দেন মেহেদী হাসানের হাতে। স্টাম্প টু স্টাম্প সোজা বল করে যাচ্ছিলেন তিনি, যার সফলতা পেয়ে যান দুটি উইকেট শিকার করে। এ সময় বাউন্ডারির জন্য হাপিত্যেশ করতে থাকেন লঙ্কান ব্যাটসম্যানরা। ২২ বল পর সেই বাউন্ডারি এসেছিল। তবে কৌশল বদল করেছিল শ্রীলঙ্কাও। পাঁচ নম্বরে অধিনায়ক আসালঙ্কা না নেমে দাসুন শানাকাকে পাঠিয়েছিলেন স্লগ খেলতে। ঠিক এখানেই রং বদলে দেন তিনি। নাসুম ও তাসকিনের পরপর দুটি ওভারে ৭ বলের মধ্যে ২৬ রান তুলে নেন শানাকা আর আসালঙ্কা। ইনিংসের ১৫তম ওভার থেকেই যেন গিয়ার বদলে ফেলে লঙ্কানরা। যে দলের স্কোর ১৪ ওভারে ছিল ৪ উইকেটে ৯৮ রান, সেটাই ১৮ ওভার শেষে ১৫৩! মাঝের এই ২৪ বল থেকে ৫৫ রান আদায় করে নেয় লঙ্কানরা। উনিশতম ওভারে অবশ্য মুস্তাফিজ এসে তাঁর মতোই রানের লাগাম টেনেছিলেন। কামিন্দু মেন্ডিস আর হাসারাঙ্গার মতো ভয়ংকর দুই ব্যাটসম্যানকে ওই ওভারেই ফিরিয়ে দিয়েছিলেন। মাত্র ৫ রান দিয়েছিলেন তিনি ওই ওভারে।

লঙ্কার দেওয়া রান তাড়া করতে নেমে  সেদিনের মতোই প্রথম দুটি বল ডট আসায় ঘাবড়ে যান দুই ওপেনার। ঝুঁকিটা নেন তানজিদ তামিম, তুষারাকে ডাউন দ্য উইকেটে এসে খেলতে গিয়ে স্লোয়ার অফ কাটারে বোল্ড হয়ে যান শূন্য রানে। লিটন এসে সিঙ্গেলস আর বাউন্ডারি হাঁকিয়ে সেই আতঙ্কটা দূর করেন। এরপর সাইফও খোলস থেকে বেরিয়ে এসে তুষারাকে যে মেজাজে চার-ছক্কা হাঁকান, তা দেখে লঙ্কান অধিনায়ক আসালঙ্কার দুই হাত এমনিতেই মাথায় উঠে যায়। বিশেষ করে তুষারার যে বলটিতে এক পায়ে দাঁড়িয়ে ফ্লিকে ছক্কা হাঁকান সাইফ। তারপর আর তাঁকে আটকানোর জন্য হাসারঙ্গাকে বোলিংয়ে আনা না ছাড়া কোনো উপায় ছিল না লঙ্কান অধিনায়কের সামনে। দলের সেরা সেই অস্ত্রেই ঘায়েল হন লিটন দাস। সুইপ খেলতে গিয়ে ক্যাচ দিয়ে বসেন স্কয়ার লেগে। ১৬ বলে ২৩ রান করে যাওয়ার আগে তিনটি বাউন্ডারি হাঁকান তিনি, কিন্তু যে সুইপ আর রিভার্স সুইপে আগের ম্যাচগুলোতেও ব্যর্থ হয়েছেন, এদিনও সেই একই ভুল করেন।

তবে সাইফ ছিলেন তুঙ্গে। এদিন লঙ্কার সবচেয়ে আবেগী নাম ওয়েলালাগের প্রতিও মায়া দেখাননি সাইফ। ৭৮ মিটারের ছক্কা হাঁকান সাইফ ওয়েলালাগের লেগ স্টাম্পের দিকে আসা বলটিও। পাওয়ার প্লেতে ১ উইকেটে ৫৯ রান চলে আসে। ৩৬ বলে অর্ধশত করে নেন সাইফ। শুধু হাসরাঙ্গাতে একটু হাসফাঁস ছিল, তার প্রথম দুই ওভারে ৬ রানের বেশি নিতে পারেননি সাইফ-হৃদয়রা। সেই হাসারাঙ্গার কাছেই ৬ ছক্কায় সাজানো সাইফ ক্যাচ দিয়ে ফিরে যান। তবে যাওয়ার আগে বোধহয় বাটনটা দিয়ে যান তাওহীদ হৃদয়ের হাতে।

ইনিংসের মাঝে উইকেট পড়ার এতটুকু আতঙ্ক ভর করতে দেননি হৃদয়। বরং লঙ্কান স্পিনার ওয়েলালাগেকে ৯৭ মিটারের বিশাল ছক্কা হাঁকান। হৃদয়ের এভাবে ফিরে আসায় শেষ পর্যন্ত লঙ্কার কাছে গ্রুপ পর্বে হারের বদলাটাও নিয়ে নিয়েছে বাংলাদেশ।

Viewed 4600 times

Spread the news
Copyright © All rights reserved. | Newsphere by AF themes.
error: Content is protected !!