May 13, 2026

Daily Amar Vasha

উত্তর জনপদে সত্য প্রকাশে দৃঢ়

‘দুর্ভোগ দেখতি খারাপ লাগে, তাই খানাখন্দ সমান করি’

ডেস্ক রিপোর্ট : ‘দুই বছর হতি গেল, এ ভাঙা রাস্তা মেরামত হয় না। মানুষ অনেক কষ্ট কইরে উপজেলা সদরে যাতায়াত করে। বৃষ্টি হলি সাইকেল, ভ্যান, মোটরসাইকেল নিয়ে কাদায় গড়াগড়ি খাতি হয়। স্কুল-কলেজে যাওয়া ছেলেমেয়েদের অনেক কষ্ট। বাড়ির সামনে রাস্তায় প্রত্যেক দিন মানুষের দুর্ভোগ দেখতি নিজের কাছেও খারাপ লাগে। তাই চেষ্টায় আছি, নিজির সাধ্যমতো যতটুকু পারি, খানাখন্দগুলো সমান কইরে দেই। এতে মানুষের কষ্ট যদি কিছুটা কমে।’ কথাগুলো খুলনার কয়রা উপজেলার মদিনাবাদ গ্রামের রফিক সিরাজের।

নিজের উদ্যোগে বাড়ির সামনের ভাঙা সড়ক মেরামতকাজ করছিলেন রফিক। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, তিনি আর্থিকভাবে খুব সচ্ছল না হলেও এলাকার স্বার্থে অনেক কাজ করেন। এবারও নিজের খরচে রাস্তা মেরামতের উদ্যোগ নিয়েছেন। শনিবার সেখানে গিয়ে দেখা যায়, দুই দিনে তিনি তাঁর বাড়ির সামনের প্রায় ১০০ মিটার অংশের খানাখন্দ খোয়া ও বালু দিয়ে ভরাট করে যান চলাচলের উপযোগী করেছেন। স্থানীয় অনেকে স্বেচ্ছায় তাঁর কাজে সহযোগিতা করছেন।

রফিক সিরাজ জানান, সড়ক মেরামতের বিষয়ে অনেকবার এলাকার জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের কাছে গেছেন, কিন্তু লাভ হয়নি। নিজের উদ্যোগে যতটুকু সম্ভব করে যাচ্ছেন জানিয়ে তিনি বলেন, ‘এই সাত কিলোমিটার রাস্তা এভাবে নিজে ঠিক কইরে দিতি পারলি মনে শান্তি পাইতাম।’

সরেজমিন জানা যায়, সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের আওতাধীন উপজেলা সদরের চেয়ারম্যানবাড়ি মোড় থেকে দেয়াড়া গোপালের মোড় পর্যন্ত প্রায় সাত কিলোমিটার সড়ক চলাচলের অনুপযোগী হয়ে গেছে। দুই বছরেরও বেশি সময় ধরে এ পথে যাতায়াতকারীরা দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। সড়কটি মেরামতের ব্যাপারে কার্যকর উদ্যোগ নেয়নি কর্তৃপক্ষ। ফলে মানুষের কষ্ট দেখে রফিক সিরাজের মতো অনেকে ব্যক্তিগতভাবে খানখন্দে ইটের খোয়া-বালু ফেলে চলাচলের উপযোগী করার চেষ্টা করছেন।

স্থানীয় একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নুরুল আমিনের ভাষ্য, ‘উপজেলার প্রধান সড়কের এমন বেহাল অবস্থা আগে দেখিনি। বৃষ্টি হলে চলাচল অসম্ভব হয়ে যায়। প্রায়ই ভ্যান, অটোরিকশা, মোটরসাইকেল উল্টে যায়। স্কুল-কলেজে আসা শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগ পোহাতে হয় বেশি।’ এসব চিন্তা করে তিনিও সড়কের কয়েকটি স্থান মেরামত করে নিয়েছেন।

অটোরিকশাচালক হাফিজুল ইসলাম বলেন, ‘সড়ক মেরামতের দায়িত্ব যাদের, তারা কোনো উদ্যোগ নেয় না। বাধ্য হয়ে এলাকার মানুষের দায়িত্ব নিতে হচ্ছে।’

এলাকা ঘুরে দেখা যায়, বেহাল সড়কের যেসব অংশে হাটবাজার রয়েছে, সেখানকার দোকানি ও হাটুরিয়ারা গর্ত ভরাট করেছেন। তবে এসব মেরামত খুব বেশি টেকসই হচ্ছে না। কিছুদিন যেতে না যেতেই সেখানে আগের মতো গর্ত হয়ে যাচ্ছে। এলাকার মানুষের জন্য গুরুত্বপূর্ণ এ সড়ক স্থায়ীভাবে মেরামতের দাবি জানিয়েছেন তারা।

সড়ক সংস্কারের জন্য সংশ্লিষ্টদের বলা হলেও কাজ শুরু হচ্ছে না বলে জানিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আব্দুল্লাহ আল বাকি। তিনি বলেন, উপজেলার প্রধান সড়কটির বেহাল দশায় দীর্ঘদিন ধরে মানুষ দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। এখন তারা নিজেরাই সংস্কারের চেষ্টা করছেন।

এ বিষয়ে সওজের নির্বাহী প্রকৌশলী তানিমুল হক বলেন, এলাকার মানুষের দুর্ভোগের কথা চিন্তা করে সড়কের নির্মাণকাজে নিয়োজিত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে বারবার তাগিদ দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু তাদের সাড়া পাওয়া যাচ্ছে না। কাজ না করলে প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Viewed 4550 times

Spread the news
Copyright © All rights reserved. | Newsphere by AF themes.
error: Content is protected !!